ইরান দ্রুত নিজেদের সামরিক শক্তি নতুন করে গড়ে তুলতে চায়। উন্নত অস্ত্রশস্ত্র কেনার জন্য দেশটি ইতোমধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত করছে। জাতিসংঘের সদ্য পুনর্বহাল করা নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করেই এসব অস্ত্র তেহরানের হাতে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন এক শীর্ষ সামরিক বিশেষজ্ঞ।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট -এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. জ্যাক ওয়াটলিং বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে শক্তিশালী সু-৩৫ যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা বাড়ানোর প্রযুক্তি—এসবই পেতে পারে ইরান। তার মতে, এসব চুক্তি তেহরানের সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধেই দুর্বলতা ধরা পড়ে
জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের নজিরবিহীন হামলায় দেখা যায়, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও প্রচলিত সেনাবাহিনী আক্রমণের মুখে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এত বড় মাত্রায় সামরিক ক্ষতির পর এখন প্রশ্ন উঠছে— কট্টরপন্থীদের চাপে ইরানের নেতৃত্ব কীভাবে নিজেদের পুনরায় শক্তিশালী করবে?
উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাড়ছে উদ্বেগ
উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েলের আরেকটি দুশ্চিন্তার বিষয়— রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছর পর ইরানের নজরে থাকা বেশ কিছু অস্ত্রই এখন যুদ্ধ-পরীক্ষিত। কিয়েভে হামলায় ব্যবহৃত হাজার হাজার ড্রোন সরবরাহ করেছিল ইরান। এখন তারা সম্ভবত ঐসব ড্রোন ও অস্ত্রের আরও উন্নত সংস্করণ নিজেদের জন্য সংগ্রহ করতে চাইছে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেনা-বেচা?
ইরানের কাছে যে কোনো অস্ত্র বিক্রিই জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার সরাসরি লঙ্ঘন। ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কারণে সেপ্টেম্বরের শেষে ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞা পুনরায় চালু করার পর জাতিসংঘ আবারও এই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তবুও তেহরানের অস্ত্র কেনার তৎপরতা থামছে না— আর এ কারণেই আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা।