ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচতে এবার প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগের কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে বসলেন! নিজেই একটা ভিডিও বার্তা দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবর জানিয়েছেন তিনি।

রোববার রাতে ছোট্ট এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য মাননীয় প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছি। আমার আইনজীবীরা ইতিমধ্যে সেই চিঠি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। যারা দেশের ভালো চান, আশা করি তারা এই পদক্ষেপকে সমর্থন করবেন।”
প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হেরজগ এই আবেদনকে ‘অবাক করা’ বলে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, “এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ময়কর অনুরোধ। সব তথ্য-প্রমাণ ও মতামত নেওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নেব।”

কিন্তু এই খবর বের হতেই ইসরায়েলে আগুন জ্বলে উঠেছে! তেল আবিবের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে এসেছেন। প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভকারীরা মিছিল করেছেন। এমনকি পার্লামেন্টের বিরোধী দলের এমপিরাও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
বিরোধী এমপি নামা লাজিমি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট যদি এই ক্ষমা মঞ্জুর করেন, তাহলে ইসরায়েল পুরোদস্তুর বানানা রিপাবলিক হয়ে যাবে!” বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তুলেছেন – “ক্ষমা মানেই বানানা রিপাবলিক!”

রাস্তায় নেতানিয়াহুর ব্যঙ্গাত্মক কুশপুতুল নিয়ে এসেছেন বিক্ষোভকারীরা। বিখ্যাত মানবাধিকারকর্মী শিকমা ব্রেসলারও ছিলেন সেই জমায়েতে। তিনি বলেছেন, “এই মানুষটা দেশকে ছিঁড়ে ফেলেছেন। এখন কোনো দায় না নিয়ে, কোনো অনুতাপ না দেখিয়ে বিচার থেকে পালাতে চান। ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ এটা কখনো মেনে নেবে না। এটা আমাদের দেশের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।”
প্রধান বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, “নেতানিয়াহু এখনো প্রকাশ্যে অপরাধ স্বীকার করেননি, অনুতাপও করেননি। তার উচিত রাজনীতি ছেড়ে চলে যাওয়া। এখানে ক্ষমার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাকে ক্ষমা করা যায় না।”

 

Walton Ads