ইরানের মসজিদগুলো দেখলেই চোখ আটকে যায় সেই অপূর্ব ফিরোজা-নীল রঙে! গম্বুজ থেকে দেওয়াল – সবকিছুতে যেন আকাশ নেমে এসেছে। কিন্তু এই রঙটা শুধু সুন্দর বলেই ব্যবহার করা হয় না, এর পেছনে আছে গভীর দর্শন আর আধ্যাত্মিকতা।

প্রথম কারণ – এই ফিরোজা নীল আকাশের প্রতীক। মসজিদে ঢুকলেই চোখ উপরে উঠে যায়, মনে হয় আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। এভাবেই মানুষকে আল্লাহর কাছে আরও কাছে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। ইসলামি স্থাপত্যে আকাশের দিকে তাকানো মানে আত্মার উত্থান।

দ্বিতীয়ত, এই রঙ মনকে অদ্ভুত শান্তি দেয়। নামাজ পড়তে বা ধ্যান করতে গেলে চারপাশের ফিরোজা নীল দেখে মন একদম স্থির হয়ে যায়। গরমের দেশে এই রঙ চোখে-মনে শীতলতা এনে দেয়।

প্রাচীন ইরানি সংস্কৃতিতে ফিরোজা পাথরকে পবিত্র আর রক্ষাকবচ মনে করা হতো। বদ নজর থেকে বাঁচায় বলে গয়না থেকে শুরু করে বাড়ি-ঘরে ব্যবহার হতো। সেই ঐতিহ্য এখনো মসজিদের টাইলসে বেঁচে আছে।

আরেকটা মজার ব্যাপার – ইরানের গরম আবহাওয়ায় এই রঙ দেখলে মনে হয় যেন ঠান্ডা হাওাওয়া লাগছে। স্থপতিরা ইচ্ছে করেই এই রঙ বেছে নিয়েছেন যাতে গরমের মধ্যেও মানুষ শান্তি পায়।
সূর্যের আলো পড়লে এই ফিরোজা টাইলস ঝকঝক করে ওঠে, যেন আল্লাহর নূর ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। চোখ-মন দুটোই ভরে যায়।
তাই শুধু সৌন্দর্য নয়, এই ফিরোজা নীলের মধ্যে লুকিয়ে আছে আকাশ, শান্তি, পবিত্রতা আর ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের বার্তা!

 

Walton Ads