ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির পালানোর ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দায়ী করেছে সৌদি আরব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত এসটিসি প্রধান জুবাইদি এডেন থেকে গোপন সমুদ্র ও আকাশপথ ব্যবহার করে আবুধাবি পালিয়ে গেছেন।

জোটের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি মধ্যরাতের পর জুবাইদি তার সঙ্গীদের নিয়ে ‘বামেদহাফ’ নামের একটি জাহাজে এডেন বন্দর ত্যাগ করেন। জাহাজটি সাগরে শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখে এবং সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে তিনি আমিরাতি সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর একটি ইলিউশিন আইএল-৭৬ বিমান অজ্ঞাত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সৌদি আরবের দাবি অনুযায়ী, বিমানটি মোগাদিশু হয়ে অবশেষে আবুধাবির আল-রিফ সামরিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

সৌদি আরব জাহাজটির নিবন্ধন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তারা জানিয়েছে, গত ৩০ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইয়েমেনে অস্ত্র ও সামরিক যান পরিবহনের অভিযোগে যে জাহাজে সৌদি হামলা চালিয়েছিল, জুবাইদির পালানোর জন্য ব্যবহৃত জাহাজটিও একই দেশের পতাকাবাহী।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল জুবাইদির বিরুদ্ধে উচ্চতর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, জুবাইদি সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন করে বেসামরিক নাগরিক ও সৈন্যদের হত্যা এবং সামরিক স্থাপনায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।

অন্যদিকে, এসটিসি জানিয়েছে, রিয়াদে আলোচনার জন্য যাওয়া তাদের ৫০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিনিধি দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, রিয়াদে পৌঁছানোর পর তাদের একটি বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারপর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

 

Walton Ads