ইসরাইলি অবরোধ ও টানা হামলার মধ্যেই গাজায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এক ধরনের ভয়াবহ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস। এতে ইতিমধ্যে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আগে থেকেই নাজুক থাকা গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের মেডিকেল পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা। তার ভাষায়, “আমরা নজিরবিহীন এক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি।” তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা গাজার হাসপাতালগুলোর আর অবশিষ্ট নেই।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ভাইরাসটি ফ্লু বা করোনাভাইরাসের কোনো রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের অপুষ্টি, মানসিক চাপ এবং টিকাদানের ঘাটতির কারণে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বছরের পর বছর ধরে অবরোধের মধ্যে অস্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধ্য হওয়াই এই সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা এবং বমির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সমস্যা নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। শীতল ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার মধ্যে তাঁবুতে গাদাগাদি করে থাকা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।

এদিকে গাজার হাসপাতালগুলোতে চলছে চরম ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট। অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসারের ওষুধ, কিডনি ডায়ালাইসিসের উপকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসাসামগ্রী প্রায় শেষ। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও কার্যত বন্ধের পথে, অথচ যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে মানুষের মানসিক আঘাত সবচেয়ে বেশি বাড়ছে।

মোহাম্মদ আবু সালমিয়া অভিযোগ করে বলেন, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তার দাবি, জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী আটকে রাখা হলেও অপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে—যা মানবিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

 

Walton Ads