শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবারও যুদ্ধের হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিলিস্তিনের সংগঠন হামাসকে 'উড়িয়ে দেওয়ার' হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, তারা যদি তিন সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্র না ছাড়ে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তৃতার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই হুমকি দেন।

কী বললেন ট্রাম্প?
ট্রাম্প দাবি করেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, "তারা এটাই করতে রাজি হয়েছে। তাদের এটা করতেই হবে। আর আমরা জানতে পারব—আগামী দুই বা তিন দিনের মধ্যে, অবশ্যই তিন সপ্তাহের মধ্যেই—তারা এটা করবে কি না।"
তারপরই সরাসরি হুমকি দিয়ে যোগ করেন, "যদি তারা এটা না করে, তাহলে তারা খুব দ্রুতই বিধ্বস্ত হবে। তাদের উড়িয়ে দেওয়া হবে।"

'কূটনীতির মঞ্চে যুদ্ধের ভাষা'
বিশ্লেষকদের মতে, দাভোসের মতো শান্তি ও সমঝোতার আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে এ ধরনের যুদ্ধংদেহী ভাষা ব্যবহার পুরোনো মার্কিন আগ্রাসী নীতিরই প্রতিফলন। ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করতে চাচ্ছে বলেই তাদের অভিযোগ।

ফিলিস্তিনি পক্ষের প্রতিক্রিয়া কী?
ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, নিজেদের ভূমি ও অধিকার রক্ষার লড়াইকে 'সন্ত্রাস' আখ্যা দিয়ে দমন করার এই হুমকি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই আবারও সবার সামনে নিয়ে এসেছে।

পরিস্থিতি কোথায় গড়াচ্ছে?
ট্রাম্পের এই আলটিমেটাম পুরো অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হামাসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া না এলেও, তাদের তিন সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্র ত্যাগ করার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে, এই হুমকি বাস্তবায়ন হলে গাজা ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। তবে, ট্রাম্পের এই হুমকির পর তারা কী ধরনের অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের একতরফা হুমকি শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও পিছিয়ে দেবে।

 

Walton Ads