যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি ও স্পষ্ট ভাষায় কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের বার্তা—ওয়াশিংটনের চাপ, হুমকি আর আগ্রাসননির্ভর কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এখন সময় এসেছে পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক নীতিতে ফিরে যাওয়ার।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখা এক চিঠিতে এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আরাগচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শত্রুতামূলক পদক্ষেপই ব্যর্থ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, চাপ কিংবা হুমকি—কোনোটিই তেহরানকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ নিহত নাগরিকদের জন্য এখনো শোক পালন করছে ইরান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্গঠনের কাজও চলছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আগ্রাসী নীতির কারণে কূটনীতিই ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছে—এমন সতর্কতাও দেন আরাগচি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা হবে ভয়াবহ, নিষ্ঠুর এবং অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী। তার ভাষায়, ইসরায়েল ও তাদের মিত্ররা হোয়াইট হাউসের ওপর যে ‘কল্পনাপ্রসূত সময়সীমা’ চাপিয়ে দিতে চাইছে, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও ভয়ংকর।

আরাগচির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চাপ প্রয়োগের সব অস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে—অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সাইবার হামলা এমনকি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপও। তবুও ইরান মাথা নত করেনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন যে ‘বৃহৎ সন্ত্রাসী অভিযানে’ মদদ দিয়েছে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এসব পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করেছে এবং শান্তির পথকে আরও দূরে ঠেলে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের বার্তা একদম স্পষ্ট—চাপ আর আগ্রাসনের রাজনীতি দিয়ে তেহরানকে দমানো যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কূটনৈতিক সমাধান চায়, তাহলে ইসরায়েলের যুদ্ধংদেহী এজেন্ডা থেকে সরে এসে সম্মান, বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক আইনের পথে ফিরতে হবে।

 

Walton Ads