রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটা তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে ফ্রান্সের নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মাইক্রো ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটা পোস্ট দিয়ে বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ম্যাক্রোঁ জানান, ভূমধ্যসাগরে কয়েকটা মিত্র দেশের সাহায্য নিয়ে ফরাসি নৌসেনারা জাহাজটায় অভিযান চালিয়ে সেটাকে নিজেদের কন্ট্রোলে নিয়েছে। পরে ফরাসি নৌবাহিনী জানায়, এই অভিযানে যুক্তরাজ্যও সরাসরি সাহায্য করেছে।

ফ্রান্সের দাবি, এই ট্যাংকারটা ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজ বহরের অংশ—যেগুলো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পরিচয় গোপন করে চলাচল করে। জাহাজটা ‘ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে’ চলছিল বলেও অভিযোগ তুলেছে প্যারিস।
ম্যাক্রোঁ বলেন, আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর রাখার অজুহাতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলো তারা জব্দ করতে থাকবে। তার কথায়, এসব জাহাজের মাধ্যমে তেল পরিবহন করে ইউক্রেন যুদ্ধে টাকা জোগান দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে এবং নিষেধাজ্ঞার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের যুদ্ধে অর্থায়নে সহায়তা করছে।”
ট্যাংকারটাকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, জাহাজটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এটা কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা নতুন গন্তব্য কী—সে ব্যাপারে তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্ররা নিজেদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইনকে বেছে বেছে ব্যবহার করছে। যেখানে ইসরাইলের লাগাতার আগ্রাসন বা নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা যুদ্ধগুলোতে তারা চুপ করে থাকে, সেখানে রাশিয়া বা ইরানের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেয় পশ্চিমা শক্তি—যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে দ্বিচারিতারই আরেক উদাহরণ।

 

Walton Ads