বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি চায়না'র বিওয়াইডির প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা (সিইও) স্টেলা লি মধ্যপ্রাচ্যকে "উদ্ভাবনের জন্মভূমি" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ব্যাপক বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের কারণে এই অঞ্চলে নতুন প্রযুক্তি এখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে তিনি আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।
কী বললেন স্টেলা লি?
স্টেলা লি বলেন, "আমরা মধ্যপ্রাচ্যে প্রচুর বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখানে একটি শক্তিশালী ডিলার নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি চালু করতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি।" তিনি আরও যোগ করেন যে সেখানকার মানুষ নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে অত্যন্ত উন্মুখ এবং সরকার ও স্থানীয় জনগণ উভয়ই ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) নিতে আগ্রহী।
সৌদি আরবের ২০৩০ ভিশন নিয়ে আশাবাদ
তিনি বিশেষভাবে সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী 'ভিশন ২০৩০' নীতির প্রশংসা করেন। স্টেলা লি বলেন, "যদি তারা লক্ষ্য নির্ধারণ করে, আমরা সমর্থন জারি রাখব। রিয়াদের ২০৩০ ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের মতো প্রযুক্তি কোম্পানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।"
বিওয়াইডির মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা
বিওয়াইডি গত বছর মার্কিন কোম্পানি টেসলাকে পিছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইভি বিক্রেতার শিরোপা জিতেছে। এখন তারা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের পদচিহ্ন আরও বাড়াতে চায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে ব্যাটারি-চালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি (বিইভি) এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির বাজার দ্রুত সম্প্রসারণে তারা কাজ করছে। এসব দেশে ইভি বাজারে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
চ্যালেঞ্জও কম নয়
তবে, সবুজ সংকেতের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোট গাড়ি বিক্রির মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি ইলেকট্রিক গাড়ি। মূল বাধাগুলো হলো:
উচ্চ মূল্য: ইভি গাড়ির দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি।
সীমিত চার্জিং স্টেশন: চার্জিং অবকাঠামো এখনও পুরোপুরি গড়ে উঠেনি।
চরম আবহাওয়া: অত্যন্ত গরম জলবায়ু ব্যাটারির কর্মক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে।
সবশেষে
স্টেলা লি এবং বিওয়াইডির এই মন্তব্য স্পষ্ট করে যে, মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক ইভি বিপ্লবের পরবর্তী বড় বাজারে পরিণত হতে চলেছে। বিনিয়োগ, সরকারি উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি গ্রহণের আগ্রহ—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি একটি 'উদ্ভাবনের হাব' হয়ে উঠছে বলে তারা মনে করেন।