ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী তৎপরতা ও অরাজক পরিস্থিতির দায় এড়িয়ে যেতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওয়াশিংটনকে এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে। ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সেদায়ে ইরান’–এ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

আরাকচি লেখেন, ইরানে সম্প্রতি যে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন বা হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। বরং এগুলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আগেই চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধেরই ধারাবাহিক অংশ। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও পরিষ্কার হয়ে গেছে—ইরানের প্রতি মার্কিন সরকারের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ কী।

তার মতে, এসব ঘটনা বিশ্ব জনমতের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছে—কোনো রাষ্ট্র কি কোনো জবাবদিহি বা শাস্তি ছাড়াই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারে?

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও লেখেন, মাঠপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ও সরকারি বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি সংঘটিত সন্ত্রাসী অভিযান কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা, তাদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন সহায়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত প্রকল্প।

তিনি জানান, এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অনুচরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে, দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের শান্তিপূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদকে ভিন্ন পথে প্রবাহিত করে সন্ত্রাসী তৎপরতায় রূপ দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।

আরাকচি বলেন, এই সহিংসতার ক্ষয়ক্ষতি শুধু মানুষের জীবন ও সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সাধারণ দোকানপাট ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ নাগরিকদের প্রাণহানিও ঘটেছে। এসব ঘটনা থেকেই স্পষ্ট, দাঙ্গাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল করে সমাজে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কয়েকটি দেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা ১৯৬১ ও ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন। তার ভাষায়, এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ‘রেডলাইন’ অতিক্রম করার শামিল।

আরাকচি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে বারবার প্রকাশ্য হুমকি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একজন স্বাধীন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আনুষ্ঠানিক পদাধিকারী। এ ধরনের হুমকি অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করার নীতির সরাসরি লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রনেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ না করার আন্তর্জাতিক রীতিনীতির বিরোধী।

তার মতে, এসব হুমকির গুরুতর আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

Walton Ads