ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে একটি ‘নতুন জাতিসংঘ’ বানাতে চাইছেন। লুলার মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার নাম ‘বোর্ড অব পিস’। মূলত, জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবেই এই সংস্থাটি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) লুলা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ জাতিসংঘকে সংস্কারের চেষ্টা নয়। বরং, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে এড়িয়ে নিজের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর এক কৌশল।
খবরে কী বলা হয়েছে? বলা হয়েছে, ‘বোর্ড অব পিস’-এর স্থায়ী সদস্য হতে হলে কোনো দেশকে গুনতে হবে ১০০ কোটি ডলার। আর এই সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবেই থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে। এমন শর্তে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলাসহ অনেক দেশের নেতাই এই সংস্থায় যোগ দিতে আগ্রহ দেখাননি।
গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। সেখানে প্রথম ধাপে ১৯টি দেশের নেতা ও প্রতিনিধি এই উদ্যোগে সই করেন।
লুলা বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশ এখন কে কত শক্তিশালী, তা দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এটা খুবই বিপজ্জনক।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘একক কোনো শক্তির আধিপত্য চলবে না। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘের ভূমিকাই হতে হবে শক্তিশালী।’
এর একদিন আগেই লুলা ফোনে কথা বলেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে। ওই আলোচনায় সি চিনপিংও জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা অটুট রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বিকল্প কোনো কাঠামো তৈরির ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
লুলা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, শুরুতে এই ‘বোর্ড অব পিস’-কে গাজার পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও, ভবিষ্যতে এর ক্ষমতা ফিলিস্তিনের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তার আশঙ্কা, একসময় এটি জাতিসংঘের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হবে।