ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপ্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ ধাপে—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সূত্র। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২ জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে চ্যানেল–১২ আরও জানায়, সম্ভাব্য হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে আসতে পারে এমন পাল্টা প্রতিক্রিয়া মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে মার্কিন সেনারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী, যুদ্ধবিমানসহ ভারী অস্ত্র পুরোপুরি মোতায়েন করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এরই মধ্যে যুদ্ধবিমান বহনকারী মার্কিন রণতরীগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোচ্ছে। আলজাজিরা, সিএনএন ও বিবিসিও একই ধরনের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চ্যানেল–১২-এর তথ্যমতে, গত আট মাসের মধ্যে এবারই মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বহরের মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরী, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার, একাধিক ফাইটার স্কোয়াড্রন এবং বাড়তি আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জানান, ইরানের দিকে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠানো হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পরই ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
তবে প্রকাশ্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এসব অস্ত্র ব্যবহার করতে চান না এবং ইরান সরকারের সঙ্গে সংলাপের পথেই আগ্রহী। কিন্তু একদিকে আলোচনার কথা, অন্যদিকে বিপুল যুদ্ধাস্ত্রের সমাবেশ—এই দ্বিমুখী অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কৌশলকেই স্পষ্ট করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানের নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে প্রায় চার হাজার মানুষ নিহত হন। যদিও ইরান সরকার বরাবরই বলছে, এই সংখ্যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে হামলার হুমকি দেন। পরে তিনি দাবি করেন, ‘হত্যা বন্ধ’ হওয়ায় তারা হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। অন্যদিকে, ইসরাইলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড সাধারণ নাগরিকদের জন্য জারি করা জরুরি নির্দেশনায় এখনো কোনো পরিবর্তন আনেনি, তবে পরিস্থিতি বদলালে নির্দেশনা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর ছোট বা বড় যেকোনো হামলাকেই তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবেই দেবে তেহরান।