ইরানের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বিক্ষোভ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন প্রখ্যাত মার্কিন বিশ্লেষক ও তাত্ত্বিক জন মের্শেইমার। তার জোরালো অভিযোগ, ইরানে যা ঘটেছে, তা আসলে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি যৌথ প্রকল্প ছিল, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির সরকার ব্যবস্থাকে উল্টে দেওয়া। তবে সেই পুরো প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে।

পার্সটুডে-র বরাতে জানা গেছে, আমেরিকান ওয়েবসাইট অ্যান্টিওয়ার মের্শেইমারের বক্তব্য প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমা মূলধারার মিডিয়া ইরানের এই বিক্ষোভগুলোকে পুরোপুরি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে চালিয়ে দিতে মরিয়া ছিল। তাদের বর্ণনা ছিল, প্রায় সব বিক্ষোভকারীই শান্তিপূর্ণ ছিলেন, ইরান সরকার নির্বিচারে দমনপীড়ন চালিয়েছে এবং এসবের পেছনে কোনো বিদেশি হাত নেই।

কিন্তু বিশ্লেষক মের্শেইমার এই ব্যাখ্যাকে একদম উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষ্য, এই দাবির বিপরীতে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। অবশ্য, তিনি এটাও মানেন যে সত্যিকারের দাবি নিয়ে বহু শান্তিপূর্ণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। কিন্তু সেটা গল্পের পুরোটাই নয়, মাত্র এক টুকরো।

মের্শেইমারের দাবি, বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন। ইরানে যা ঘটেছে, তা ছিল তেহরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশটিকে ভেঙে ফেলার জন্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের 'দুই সদস্যের দল'-এর একটি পরিকল্পিত অপারেশন। বিশ্লেষকদের মতে, এই একই কৌশল আগে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও ইসরাইল সিরিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহু বছর ধরেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এই চাপ আরও বহুগুণ বেড়েছে। তার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানের ওপর 'সর্বোচ্চ চাপ' সৃষ্টি করা, যা তিনি নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করেছেন।

এই নিষেধাজ্ঞার আসল লক্ষ্যই ছিল ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তোলা, যাতে তারা হতাশ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। এই অর্থনৈতিক যুদ্ধই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ।

 

Walton Ads