ব্রিকস জোটের যৌথ নৌ মহড়ায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ অংশ নেওয়া নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন তুমুল বিতর্ক চলছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশটির জলসীমায় এই মহড়া হয়েছে, আর ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখন সরকার তদন্ত শুরু করেছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা নাকি ইরানকে মহড়ায় না যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন—এমন দাবিও সামনে এসেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমনস টাউন নৌঘাঁটিতে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ ইরানের যুদ্ধজাহাজ ভিড়ানোর ছবি প্রকাশ হতেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। ব্রিকস এখন ১০ দেশের জোট—ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা আর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। নামটা এসেছে প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর আদ্যক্ষর থেকে।
২০০৬ সালে গঠিত এই জোট শুরুতে ছিল শুধু বাণিজ্যকেন্দ্রিক। পরে নিরাপত্তা সহযোগিতা আর সাংস্কৃতিক বিনিময় যুক্ত হয়েছে। নতুন সদস্য যোগ দেওয়ার পর এখন একে ব্রিকসপ্লাস বলা হয়।
১৬ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় সপ্তাহব্যাপী এই মহড়া শেষ হয়েছে। দেশের ভেতরে যেমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও খোলাখুলি অসন্তোষ জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের মতে, ইরানের মতো দেশকে নিয়ে এমন সামরিক মহড়া ‘উসকানিমূলক’।
দক্ষিণ আফ্রিকা আগেও রাশিয়া-চীনের সঙ্গে নিয়মিত নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু এবারেরটা এমন সময়ে হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিকসের অনেক সদস্য দেশের উত্তেজনা চরমে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে। পশ্চিমা চাপ আর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একা নয়—এই মহড়া সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘উইল ফর পিস ২০২৬’ নামের এই মহড়ার লক্ষ্য ছিল সাগরে নিরাপত্তা জোরদার করা আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো। মহড়ার আগে সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান আর পারস্পরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্রিকসপ্লাস দেশগুলো একসঙ্গে হয়েছে।