ইরানে যদি কোনোভাবে সরকার পতন ঘটে, তাহলে নিজেদের সীমান্তে একটি বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সংসদে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থান এবং ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে “যে কোনো কিছু হতে পারে”—এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে আঙ্কারা।
বৈঠকে উপস্থিত এক সাংসদের দাবি, কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবেই ইরান সীমান্তে বাফার জোন তৈরির প্রসঙ্গ তোলেন। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো—ইরানে সরকার পতন হলে সেখান থেকে যেন নতুন করে কোনো শরণার্থী তুরস্কে ঢুকতে না পারে। কারণ তুরস্ক আর নতুন শরণার্থী গ্রহণে আগ্রহী নয়।
তবে বৈঠকে থাকা আরেক সাংসদ জানান, সেখানে সরাসরি “বাফার জোন” শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু তিনি স্বীকার করেন, স্বাভাবিক ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও বড় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। তার ভাষায়, “কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরান সীমান্তে যা কিছু করার দরকার, সবই করা হবে। লক্ষ্য একটাই—যারা ইরান থেকে তুরস্কে ঢোকার চেষ্টা করবে, তারা যেন সেখানেই আটকে থাকে।”
এর আগেই চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে থাকা প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সেখানে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণের কাজও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।