মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পাঠানোর পর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে ইরান। তেহরানের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন এই নৌবহরটি বর্তমানে এমন একটি দূরত্বে আছে, যেখান থেকে সহজেই ইরানের ওপর আঘাত হানা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সম্ভাব্য হামলার প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। তাদের একটাই উদ্দেশ্য—দেশটির সাধারণ মানুষকে আবার রাস্তায় নামিয়ে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি করা। তবে সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা বা পারমাণবিক কর্মসূচিকে দুর্বল করার পরিকল্পনা এতে নেই বলেই মনে করছেন তারা।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের এই চলনকে ইরানি সমাজের ঐক্য ভাঙার এক ধরনের 'ষড়যন্ত্র' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীরা যদি কোনোভাবে অস্ত্র হাতে নেওয়ার দিকে যায়, সেটি সরাসরি গৃহযুদ্ধ বাঁধানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হবে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী প্রতিটি পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে দেখছে এবং যদি কেউ আক্রমণ করে, তাহলে তার জবাব হবে পূর্ণমাত্রায় ও খুব শক্তিশালী।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সরাসরি হামলা চালানো থেকে সাময়িকভাবে বিরত ছিলেন। তবে ইরানের একটি অংশ বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত সাহায্য না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বা সমুদ্রসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। যদিও মার্কিন বিমানবাহী স্ট্রাইক গ্রুপটি বর্তমানে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে, যার ফলে তৃতীয় কোনো পক্ষের অনুমতি ছাড়াই হামলা চালানোর সুযোগ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে।

 

Walton Ads