ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা সামনে আসছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থা বলছে, নিহতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েও যেতে পারে।

এই বিক্ষোভ দমন নিয়ে আলোচনা যখন তীব্র, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক চাঞ্চল্যকর ভিডিও। ভাইরাল হওয়া এসব ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু মানুষ ভবনের ছাদে উঠে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। এমনকি তেহরানের একটি হাসপাতালে লাশের স্তূপ পড়ে থাকার দাবিও সামনে এসেছে।

বিবিসি ভেরিফাই জানিয়েছে, ইরানে চলমান পরিস্থিতি যাচাই করা বর্তমানে ভীষণ কঠিন। কারণ সরকার দেশজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে এই অবস্থা চললেও, সীমিত সংখ্যক মানুষ স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কিংবা ভিপিএন ব্যবহার করে অনলাইনে ঢুকতে পারছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সামনে আরও ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিবিসির ধারণা অনুযায়ী, নতুন করে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো ৮ ও ৯ জানুয়ারি ধারণ করা। ওই সময় ইরানজুড়ে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের তেহরানপারস হাসপাতালে অন্তত ৩১টি মৃতদেহের স্তূপ এবং হাসপাতালের প্রবেশপথে রাখা রয়েছে সাতটি বডি ব্যাগ। পশ্চিম তেহরানের একটি হাইওয়েতেও শত শত মানুষ বিক্ষোভ করছিল—হঠাৎ গুলির শব্দে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কিছু ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের নজরদারি এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টাও দেখা গেছে। ইরানের কেরমান শহরে ধারণ করা এক ভিডিওতে ভবনের ছাদে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলি চালাতে দেখা যায়। একই ধরনের দৃশ্য ধরা পড়েছে উত্তর-পূর্বের শহর মাশহাদে—সেখানে ছাদে থাকা দুই ব্যক্তির একজন বড় রাইফেল হাতে নিয়ে ফোনে কথা বলছিলেন।

 

Walton Ads