ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে আর রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করছে—এই অভিযোগে আরও শক্ত নিষেধাজ্ঞা আনতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ ব্রাসেলসে ইইউ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ইইউ-এর পররাষ্ট্র নীতির প্রধান কাজা কালাস এই প্রস্তাব তুলেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, এবারের নিষেধাজ্ঞায় দুটো বড় বিষয়কে টার্গেট করা হচ্ছে:
প্রথমত, মানবাধিকার লঙ্ঘন: সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। এজন্য প্রায় ২০ জন ইরানি কর্মকর্তা ও ব্যক্তির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আর সম্পদ বাজেয়াপ্তির পরিকল্পনা চলছে।
দ্বিতীয়ত, সামরিক প্রযুক্তি: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, সেগুলো তৈরিতে জড়িত ১০টি ইরানি কোম্পানিকে এই তালিকায় ঢোকানো হতে পারে। এছাড়া ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ ইরানে রপ্তানির ওপরও নতুন করে বিধিনিষেধ আসতে পারে।
এর বাইরে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিয়েও বিতর্ক চলছে। ইউরোপের কয়েকটা দেশ এই বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে তালিকাভুক্ত করতে চায়। কিন্তু কিছু দেশ এখনই রাজি নয়, কারণ তাদের ভয়—এমন করলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যেতে পারে। তাই আজকের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা কম।
বিক্ষোভ দমন নিয়ে ইরানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে কাজা কালাস বলেছেন, “ইরানের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
সব মিলিয়ে ইরান এখন নতুন করে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়তে চলেছে। এতে দেশটির কূটনৈতিক আর অর্থনৈতিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইরান নিষেধাজ্ঞা, ইইউ ইরান স্যাঙ্কশন, ইরান বিক্ষোভ দমন, রাশিয়া ইরান ড্রোন, কাজা কালাস ইরান, ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক, আইআরজিসি সন্ত্রাসী, ইরান মানবাধিকার লঙ্ঘন, ইউক্রেন যুদ্ধ ড্রোন, ইরানি কোম্পানি নিষেধাজ্ঞা, ব্রাসেলস ইইউ মিটিং, ইরান রাশিয়া সম্পর্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা, ইরান ড্রোন রপ্তানি, ইরান কূটনৈতিক চাপ