যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তেজনা ও সরাসরি হুমকির আবহে তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আঙ্কারায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রের দাবি, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চলমান পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরান ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা হবে। হাকান ফিদান আলোচনায় ইরানের নিরাপত্তা, শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানাবেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হামলার বিরোধিতা করে এমন পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিতে পারে বলে জানা গেছে। হাকান ফিদান জানাবেন, পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটের দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান চায় তুরস্ক এবং প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, পরমাণু চুক্তিতে না এলে ইরানের ওপর আরও ভয়াবহ সামরিক হামলা হতে পারে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন বা পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার সতর্কবার্তাও দিয়েছেন ট্রাম্প।

সবকিছু মিলিয়ে, আব্বাস আরাঘচির এই তুরস্ক সফরকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং ইরানকে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

 

Walton Ads