ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আর ইরানের সঙ্গে ক্রমেই বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক শ’ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর বদলে বরং উত্তেজনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢালছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইসরাইলের কাছে ৩৮০ কোটি ডলার মূল্যের ৩০টি অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং ১৮০ কোটি ডলার মূল্যের ‘জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল’ (জেএলটিভি) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই জেএলটিভি হলো আধুনিক, সাঁজোয়া ও বহুমুখী হালকা সামরিক যান।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো হামলায় ইসরাইলি বাহিনী ব্যাপকভাবে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় গাজায় নিহত হয়েছেন ৭১ হাজার ৬৬২ জন ফিলিস্তিনি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। মার্কিন জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইসরাইলকে শক্তিশালী ও প্রস্তুত আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করা জরুরি। এই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি সেই লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছরই ইসরাইলে বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম পাঠায়, যার বড় একটি অংশ সরাসরি সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এসব অস্ত্রই গাজায় চলমান গণহত্যামূলক যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, সৌদি আরবের কাছে ৯০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দপ্তরটির ভাষ্যে বলা হয়, ‘এই বর্ধিত সক্ষমতা সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্থল বাহিনীকে সুরক্ষা দেবে। একই সঙ্গে সমন্বিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সৌদি আরবের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।’

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন—ইরানের দিকে একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর পাঠানো হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই ইসরাইল ও সৌদি আরবে বিপুল অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ‘শান্তি’ ও ‘নিরাপত্তা’র কথা বললেও বাস্তবে ইরানবিরোধী শক্তিগুলোকে অস্ত্রে সজ্জিত করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থির করে তুলছে।

 

Walton Ads