দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তেহরানের উপকণ্ঠে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মাজারে প্রার্থনায় অংশ নেন তিনি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খামেনির উপস্থিতি দেশের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে স্থিতিশীলতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হুমকির মধ্যে খামেনি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিরোধীদের এমন দাবির প্রেক্ষাপটে তার প্রকাশ্যে আসাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সেই জল্পনা নাকচ করতেই সামনে আনা হয়েছে।
একই দিনে ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি উল্লেখ করে হাতামি সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুপক্ষ কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার পরিণতি শুধু তাদের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল ও ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
পরমাণু কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু প্রযুক্তি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। শীর্ষ বিজ্ঞানীদের হত্যা করলেও এই সক্ষমতাকে মুছে ফেলা যাবে না।
এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ একটি নৌ-স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করায় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত হলেও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের দাবিতে বড় পার্থক্য রয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের তথ্যমতে, সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩,১১৭ জন। তবে বিরোধী সূত্রগুলোর দাবি, এই সংখ্যা ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে।