ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় থমথমে হয়ে উঠেছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ড্রপ সাইট নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাইলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ১ জানুয়ারি থেকেই ইরানের ওপর সুপরিকল্পিত হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য শুধু ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশটিতে সরকার পরিবর্তন, যাকে তারা ‘রেজিম চেঞ্জ’ বলে উল্লেখ করছে। মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীদের ধারণা, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নেতৃত্বে আঘাত হানতে পারলে ইরানে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে এবং সরকার পতনের পথ খুলে যাবে।

এক সাবেক শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই এই হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। এমনকি তিনি ট্রাম্পকে আশ্বাস দিয়েছেন, তেহরানে পশ্চিমা স্বার্থঘেঁষা নতুন সরকার গঠনে ইসরায়েল সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

এদিকে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, বিশাল মার্কিন নৌবহর ইরানের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া বলেছেন, আমেরিকানরা যদি মনে করে মাত্র দুই ঘণ্টার একটি অপারেশন চালিয়ে টুইট করে যুদ্ধ শেষ করা যাবে, তাহলে তারা মারাত্মক ভুল করছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানে হামলা হলে যুদ্ধের আগুন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা ও তাদের ঘাঁটি সরাসরি ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এবার আর ‘সীমিত প্রতিক্রিয়া’ নীতিতে বিশ্বাসী নয়—প্রয়োজনে অন্তত ৫০০ মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটানোর লক্ষ্যেই তারা কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।

যুদ্ধের ঘনঘটার মাঝেও শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইস্তাম্বুলে তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, ইরান আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায়। তবে চাপ, হুমকি বা আগ্রাসনের কাছে তারা কখনোই মাথা নত করবে না।

বিশেষ করে দেশের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস হবে না—এ কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তুরস্কের মধ্যে গোপন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের রণতরীগুলো ইরানের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত এক অগ্নিগিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে।

 

Walton Ads