সাম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করা এপস্টেইনের নথিতে আলোচিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে খাসোগিকে হত্যার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইন আনাস আল রশিদ নামের এক ব্যক্তির সাথে একাধিক বার্তা বিনিময় করেছিলেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নথি থেকে দেখা যায়, এপস্টেইন ও আনাস আল রশিদের মধ্যে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জামাল খাসোগিকে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়। তখন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই এই হত্যা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, যুবরাজ সালমানই এই হত্যার অনুমোদন দিয়েছিলেন।
খাসোগি হত্যা আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাসোগি হত্যার ঘটনায় সারা বিশ্বে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
প্রকাশিত নথির আরেকটি ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন লিখেছেন, তার কাছে একটি পরোক্ষ সূত্র জানিয়েছে যে, খাসোগি হত্যা অভিযানে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। পরে ওই ফোন হ্যাক করে তৃতীয় কোনো পক্ষ ভিডিওটি পেয়ে যায়। ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবরের একটি বার্তায় আনাস আল রশিদ খাসোগি হত্যাকে 'ভয়ঙ্কর... অত্যন্ত ভয়ঙ্কর' বলে বর্ণনা করেন।
এর উত্তরে এপস্টেইন লেখেন, "আমার মনে হচ্ছে এর পেছনে বড় কিছু আছে। যদি বের হয় যে, এমবিজেড তাকে (বিন সালমান) ফাঁসিয়ে দিয়েছেন, আমি একদম অবাক হব না।" এখানে 'এমবিজেড' বলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে বোঝানো হয়েছে।
এপস্টেইনের এই মেসেজের জবাবে আনাস আল রশিদ শুধু লিখেছিলেন, "হমমমম..."।
এপস্টেইন আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে আনাস আল রশিদ লেখেন, "এই তথ্যগুলো (হত্যায় যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা) খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে ফাঁস করা হয়েছে, এমন বলা কঠিন এবং...দ্রুত...খুব দ্রুত।"
আল রশিদ আরও সতর্ক করে লিখেছিলেন, এই সংকট এখন একটি কূটনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তার ভাষায়, "এটা এখন একটি মিডিয়া যুদ্ধ। সৌদিরা যদি নিজেদের রক্ষায় কাজ না শুরু করে, তাহলে তারা ট্রাম্পের সমর্থনও হারাতে যাচ্ছে। আমার মতে, নিজেদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সত্য বলা, তা যতই খারাপ হোক।"
২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর আরেকটি কথোপকথনে এপস্টেইন এ নিয়ে আরও প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, খাসোগিকে কি সন্ত্রাসী বলা যায়? তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, এটা কি কোনো ব্যর্থ গোপন অপারেশন নাকি কারো জন্য ফাঁদ পাতার ঘটনা? এসব কথোপকথনে তিনি বারবার আবুধাবির শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের নাম উল্লেখ করেন।
নথি থেকে দেখা যায়, ওই দিন রাতেই এপস্টেইন আরেকজন পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বার্তা পান, যার নাম নথিতে লুকানো আছে। বার্তায় বলা হয়, "মোহাম্মদ বিন জায়েদ জরুরি বৈঠকের জন্য বলেছেন। আগামীকাল সকালেই সেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে।
এই সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রু সহ বেশ কয়েকজন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তির নাম আবার উঠে এসেছে। এর আগের নথিতেও তাদের নাম ছিল। নতুন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের নামও পাওয়া গেছে।