২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হঠাৎ করেই বিশ্বকে চমকে দেয় সৌদি আরব। তখন দেশটির সরকার জানায়, রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য সীমিত পরিসরে মদের দোকান চালু করা হয়েছে। বলা হয়েছিল, এই সুবিধা কেবল কূটনীতিকদের জন্যই।
কিন্তু বাস্তবে সেই সীমা এখন আর কূটনীতিকদের মধ্যেই আটকে নেই।
নীরবে মদের বিক্রির পরিধি আরও বাড়িয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে দেশটি মদ সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সৌদিতে বসবাসরত বিত্তশালী প্রবাসীরাও এখন বৈধভাবে মদ কিনতে পারছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, মদ কিনতে চাইলে প্রবাসীদের থাকতে হবে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পারমিট। এই পারমিটের জন্য বছরে খরচ প্রায় ১ লাখ সৌদি রিয়াল। পাশাপাশি যেসব প্রবাসীর মাসিক আয় কমপক্ষে ৫০ হাজার রিয়াল, তারাও এই সুবিধার আওতায় পড়ছেন।
তবে মুসলিম প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। শুধু অমুসলিম প্রবাসীরাই মদ কিনতে পারছেন। দোকানে প্রবেশের সময় প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি কার্ড দেখানোর পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ও জানাতে হচ্ছে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন বিত্তশালী প্রবাসী জানান, দোকানে ঢোকার আগে মোবাইল ফোন জমা রাখতে হয়। সেখানে ক্রেতার চাপ বেশ বেশি, অনেক সময় এক ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ইউরোপের তুলনায় মদের দাম প্রায় তিন গুণ হলেও অনেকে এখান থেকেই কিনছেন। কারণ, ব্ল্যাক মার্কেটের তুলনায় এখানে ঝুঁকি কম এবং দামও তুলনামূলক নিরাপদ।
বর্তমানে এসব দোকানে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। তবে সামনে পর্যটকদের জন্যও মদ বিক্রির সুযোগ চালু হতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিলছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব ১৯৫২ সালে দেশে মদ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছিল। দীর্ঘ ৭৩ বছর পর, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের ভাবমূর্তি আরও উদারভাবে তুলে ধরার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে রিয়াদে মদের দোকান খোলার অনুমতি দেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই দেশটিতে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।