আবারও স্পষ্ট ভাষায় ইরানের পারমাণবিক অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী লিউ বিন তেহরানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির সঙ্গে বৈঠকে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারের প্রতি পুনরায় সমর্থন জানান। তিনি ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, লিউ বিন বলেছেন, "বেইজিং সবসময় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছে। আমরা শক্তি প্রয়োগ বা নিষেধাজ্ঞার হুমকির বিপক্ষে। চীন ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের আইনী অধিকারকে সমর্থন করে।"
তিনি এও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইরান বহুবার জানিয়েছে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোন ইচ্ছা নেই। চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর জন্য একটি যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধান বের করতে প্রস্তুত।
বৈঠকে গারিবাবাদি ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে চীনের নিরপেক্ষ ও ন্যায্য অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বেইজিংয়ের সাথে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষায় তেহরানের আগ্রহের কথাও প্রকাশ করেন।
চীন সাধারণত তাদের এই অবস্থানকে শুধু একটি দেশকে সমর্থন হিসেবে না দেখে, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মূলনীতি রক্ষার অংশ হিসেবে দেখায়। যেমন—শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার, বহুপাক্ষিকতা এবং একতরফা চাপের বিরোধিতা।
আন্তর্জাতিক কাঠামোর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অধিকার রক্ষা করার অর্থ হচ্ছে, এমন একটি আইনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা, যার অংশ চীন নিজেও।
এছাড়াও, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু চীনের কাছে পশ্চিমা শক্তিগুলোর একপেশে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার একটি নমুনা। তাই ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা।
তৃতীয় একটি বড় কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ। ইরান জ্বালানি বাজারে একটি বড় শক্তি এবং চীনের "বেল্ট অ্যান্ড রোড" উদ্যোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইরানের স্থিতিশীলতা ও এই ইস্যুর কূটনৈতিক সমাধান চীনের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ খুলে দেবে। বেইজিংয়ের মতে, পারমাণবিক চাপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পাশাপাশি জ্বালানি ও বাণিজ্য পথও অনিশ্চিত করে তোলে, যা চীনের কৌশলগত স্বার্থের সরাসরি বিরোধী।
ইরানের পারমাণবিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে চীন নিজেকে একটি দায়িত্বশীল বিশ্বশক্তি ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বেইজিং সাধারণত সংলাপ ও বহুপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে বলে। তাদের এই অবস্থান শুধু ইরানের সমর্থন নয়, বরং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থায় নিজের ভূমিকা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি বড় কৌশল—যেখানে চীন একদিকে নিয়মের রক্ষক, আবার অন্যদিকে সেই নিয়মের বাছাইকৃত প্রয়োগের কঠোর সমালোচকও।