মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে উঠেছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক উইলিয়াম এফ. ওয়েচসলার বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে সেখানকার অস্থিরতা আর সংঘাত আরও ভয়ংকর আকার নেবে।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, তেহরানকে চাপে রাখতে আমেরিকার পরিকল্পনায় তিনটি মূল সিনারিয়ো বিবেচনা করা হচ্ছে। এগুলো: সীমিত সামরিক আঘাত, বড় স্থাপনায় হামলা, আর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করা। 

সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী ট্রাম্প সম্ভবত প্রথমটাই বেছে নেবেন, কিন্তু এতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়বে।
ইরান নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে—এটাই তাদের সবচেয়ে শক্ত পজিশন। গত দেড় বছর ধরে দেশটি সামরিক, রাজনৈতিক আর কূটনৈতিকভাবে মজবুত অবস্থানে আছে, আর কোনো শর্ত ছাড়া সমঝোতায় রাজি হয়নি।

কিছু বিশ্লেষক বলছেন, সংঘাত শুরু হলে ইরানের ভিতরের পরিস্থিতিও প্রভাবিত হবে। সাধারণ মানুষ ভাবতে পারে যুদ্ধ নয়, প্রতিরোধই সম্মানের রাস্তা—এতে বিদেশি আক্রমণের বিরুদ্ধে ঐক্য আরও পাকাপোক্ত হবে।

কিন্তু এমন যুদ্ধের পরিণাম শুধু ইরানের জন্য নয়—মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইসরায়েল আর আমেরিকার জন্যও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। যদি আমেরিকার সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখেন, তবু বাস্তবে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা আর অঞ্চলে প্রভাবের কারণে একতরফা হামলা পুরো এলাকায় অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভুল হিসেবের কারণে যুদ্ধ শুরু হলে তা সহজে থামবে না—এতে সমাজে আঘাত, রাজনৈতিক আর মানবিক বিপর্যয় তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে ইরান, তার মানুষ আর অঞ্চলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছানো, যেখানে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনে ঝলসে দিতে পারে।
তাই অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, আমেরিকার পরিকল্পনাকে শান্তির পথে সমঝোতায় রূপান্তর করাই বৃহত্তর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একমাত্র উপায়।

 

Walton Ads