মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে, যেকোনও সময় সামরিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ইসরায়েলের দিক থেকেও আগ্রাসনের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

এই চাপা উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্ভাব্য হামলা কিংবা শীর্ষ নেতাদের গুপ্তহত্যার আশঙ্কা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিস্ফোরক দাবি

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম -এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনা ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি-কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, যদি কোনও কারণে সর্বোচ্চ নেতা বা শীর্ষ নেতৃত্ব দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন কিংবা নিহত হন, তাহলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ধরে রাখার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান। এই সিদ্ধান্ত নিজেই অনুমোদন করেছেন খামেনি।

‘নেতৃত্ব শূন্যতা’ ঠেকাতে আগাম কৌশল

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম  জানিয়েছে, রাজনৈতিক শূন্যতা বা নেতৃত্বহীন পরিস্থিতি এড়াতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ‘স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারমুভ’ হিসেবে দেখছেন।

ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত নতুন হিসাব-নিকাশের জন্ম দিয়েছে। কারণ, এটি শুধু সামরিক প্রস্তুতি নয়—রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার কৌশলও বটে।

সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে সতর্ক ইরান

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাসান নাসরাল্লাহ এবং ইসমাইল হানিয়াহ-র মতো নেতাদের হত্যাকাণ্ড ইরানের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খামেনি মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব কাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

এই আশঙ্কা থেকেই জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-র সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে গত রোববার এই তথ্য প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

খামেনির নির্দেশনায় সামরিক ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও কর্মকর্তা নিহত হলে তার পরিবর্তে ধাপে ধাপে কে দায়িত্ব নেবেন, তা আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও নিজেদের অন্তত চারজন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

লারিজানি কি পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলী লারিজানি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে নেই। কারণ, এই পদে থাকার জন্য জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে যদি শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোপুরি অনুপস্থিত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য সংকটের আগেই ইরান যে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে—তা স্পষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়লে এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

Walton Ads