ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক ব্যুরোর উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাসুল সানায়ি তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক তৎপরতার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ডিফেন্স প্রেস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সাম্প্রতিক গতিবিধি নিয়ে সরাসরি সতর্ক করে সানায়ি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের সৈন্যদের অসংখ্য কফিনকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উস্কানি এবং বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত ইহুদিবাদী লবির স্বার্থে এমন ক্ষতি মেনে নেওয়া আমেরিকার জন্য আরও লজ্জাজনক হবে। তার ভাষায়, ডুবতে থাকা ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী নিজের প্রভু আমেরিকাকেও ছাড় দেবে না এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই ডুবে যেতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান নিয়ে সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই তার অগ্রাধিকার। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি মার্কিন গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, তিনি হুমকির চেয়ে চুক্তিকেই অগ্রাধিকার দেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই হাতে।
এদিকে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না। মার্কিন চাপ থাকা সত্ত্বেও স্টেট অব ল’ জোটের এই নেতা নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। জোটের সদস্য ওয়ালিদ আল-আসাদি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বর্তমানে মালিকির নামই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।
ইউরোপ থেকেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এসেছে। ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ ইসরায়েল সফর করা নিজের দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সম্পর্ক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর আচরণ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে ২০২৫ সালের মে মাসেই তিনি ক্রোয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সব সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা আর হবে না বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
এদিকে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরে ৪৫টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দখলদার বাহিনীর সমর্থনে এসব হামলা চালানো হয়েছে, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং পবিত্র স্থাপনাগুলোর ওপর সরাসরি আক্রমণ।
সর্বশেষ সোমবার, নাবলুস শহরের দক্ষিণে তেল গ্রামে হামলা চালিয়ে বসতি স্থাপনকারীরা ‘আবু বকর সিদ্দিক’ মসজিদের প্রবেশপথে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনা পুরো অঞ্চলে নতুন করে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।