আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় এই নির্দেশ জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যতক্ষণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু রয়েছে, ততক্ষণই নাগরিকদের ইসরায়েল ত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে বার্তায়।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরান-এর সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটেই এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি USS Gerald R. Ford শুক্রবার ইসরায়েলের উত্তর উপকূলে মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন মিশনের তথ্যমতে, U.S. Department of State বর্তমানে ইসরায়েলে থাকা অ-জরুরি সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই ইসরায়েলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।
বিশেষ করে জেরুজালেমের ওল্ড সিটি এবং ওয়েস্ট ব্যাংক এলাকায় চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ ও নাগরিক অস্থিরতার ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ইসরায়েল ও ওয়েস্ট ব্যাংক ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া গাজা সীমান্ত থেকে সাত মাইলের মধ্যে, এবং লেবানন ও সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে সেসব স্থানে ভ্রমণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাবা ক্রসিং (মিশর) ছাড়া অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে এই সতর্কবার্তা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।