মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল ইতালির একটি রেডিও চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনি বলেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো ইতালিও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে নিরাপত্তা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ভাষায়, এই সহায়তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বা এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েই দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “এটা শুধু এই কারণে নয় যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো আমাদের মিত্র। তবে শুধু এই কারণেই আমরা সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছি— বিষয়টি এমন নয়।”
মেলোনি আরও জানান, এসব দেশে হাজার হাজার ইতালীয় নাগরিক বসবাস করেন। এছাড়া প্রায় দুই হাজার ইতালীয় সেনাও সেখানে মোতায়েন রয়েছে। “আমাদের নাগরিক এবং সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব,” বলেন তিনি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পর যুদ্ধের সূচনা
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
এর ঠিক পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও ইরানে তাদের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে।
পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীও বসে নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চল এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট ছয়টি দেশ রয়েছে— সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ওমান।
এই দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে ইতালির সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা ইতালির জন্য কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।