গৃহবন্দি জিনপিং? জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেখা দিলেন চিনা প্রধানমন্ত্রী

 চিনে সেনা অভ্যুত্থানের পরে গৃহবন্দি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিং (Xi Jinping)! বেশ কিছুদিন ধরেই এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেখা দিলেন তিনি। সেই সঙ্গে ঘোষণা করলেন, চিনা বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে নতুন করে জেগে উঠবে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ। প্রসঙ্গত, অক্টোবর মাসেই চিনা পার্টি কংগ্রেসের সম্মেলন হবে। সেখানে জিনপিং বেশ বেকায়দায় রয়েছেন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

এতদিন কোথায় ছিলেন জিনপিং? সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সম্ভবত বিদেশ সফরের পরে সাতদিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তিনি। তারপরেও তিনদিন বাড়ি থেকে বেরনোর অনুমতি ছিল না তাঁর। করোনা সংক্রমণ রুখতে জিরো কোভিড নীতি গ্রহণ করেছে চিন। সেই কড়াকড়ির ঊর্ধ্বে  নন দেশের প্রধানমন্ত্রীও। প্রসঙ্গত, অতিমারীর পরে এসসিও বৈঠকেই প্রথমবার বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন জিনপিং।

[আরও পড়ুন: ‘তেলের দাম বাড়ায় আমাদের কোমর ভেঙে যাচ্ছে’, বৈঠকে আমেরিকাকে বার্তা জয়শংকরের]
কিছুদিন আগেই ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চিনের এক আদালত সেদেশের এক প্রাক্তন নিরাপত্তা আধিকারিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চক্রান্ত করার। এরপরই জোরাল হয় জিনপিংয়ের গৃহবন্দি হওয়ার গুঞ্জন। এমনও শোনা যাচ্ছে, চিনের ৬০ শতাংশ বিমানের উড়ানই বাতিল হয়েছে। এবং সেজন্য কোনও কারণও দেখানো হয়নি।

শেষবার প্রকাশ্যে জিনপিংকে দেখা গিয়েছিল উজবেকিস্তানের এসসিও মঞ্চে। গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের সমরখন্দে শুরু হয় দু’দিনের ‘সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন’-এর সম্মেলন। কূটনীতিকদের একাংশ আশা করেছিলেন, চমক দিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে পারেন মোদি ও জিনপিং। কিন্তু তেমনটা হয়নি। বরং দুই রাষ্ট্রনায়ককে দেখা যায় কার্যত মুখ ফিরিয়ে থাকতে। শোনা গিয়েছিল, ওই বৈঠক থেকে দেশে ফেরার পরই নাকি গৃহবন্দি করা হয়েছে জিনপিংকে। তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পার্টি কংগ্রেসে আগে যতই নিজেকে শক্তিশালী হিসাবে তুলে ধরুন জিনপিং, তাঁকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানের পদ থেকে সরিয়েও দেওয়া হতে পারে।

সংবাদ প্রতিদিন /এনবিএস/২০২২/একে

Walton Ads