ইরান সোমবার রাতভর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আক্রমণের জবাব বলে দাবি করেছে তেহরান।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এক বিবৃতিতে বলেছে, জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। এই ব্যাপক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের চারদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

ইরানি বাহিনী জর্ডানের প্রিন্স হাসান এয়ার বেসে বড় পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানি সংরক্ষণের স্থান ধ্বংস করেছে। বাহরাইনের শেখ ইসা এয়ারবেসে মার্কিন ড্রোন কমান্ড সেন্টার এবং হেলিকপ্টার মেরামতের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাসমূহ ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতে আলী আল-সালেম এয়ারবেসে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে আহমাদ আল-জাবের এয়ারবেসের কৌশলগত রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।

IRGC জানিয়েছে, বাহরাইনের জুফ্ফায়র এলাকায় নৌবাহিনী একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নজরদারি রাডারগুলো ধ্বংস করেছে এবং হরমুজ প্রণালী ইরানের ভূখণ্ড বলে দাবি করে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনী IRGC-এর দাবির বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) রবিবার জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক আক্রমণ চালিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন স্থানে শতাধিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। CENTCOM বলেছে, এই হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং ক্ষুদ্র নৌকা লক্ষ্যবস্তু ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেখানে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য অর্থ আদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

সোমবার সকালে ইরানি বাহিনী দুইটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হতে বাধা দিয়ে গুলি চালিয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, বন্দার আব্বাস ও কেশম দ্বীপের কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তেহরান বলেছে, বন্দার আব্বাসের কাছে একটি 'শত্রুতাপূর্ণ' ড্রোন নামিয়ে আনা হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ফেব্রুয়ারি মাসে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ ও হরমুজ প্রণালীর অবরোধের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। দুই পক্ষের মধ্যে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ার পর আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের এই সামরিক উত্তেজনা বিশ্বজনীন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান জলপথ হওয়ায় এর নিরাপত্তা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সংঘাতের অব্যাহত থাকায় তেলের দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুই পরাশক্তির এই উত্তেজনা কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

Walton Ads