ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে কাতারি সরকার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া এয়ার ফোর্স ওয়ান জেটের নিরাপত্তা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউইয়র্ক টাইমসের কয়েকজন সাংবাদিককে সাবপিনা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানায়, এই ঘটনা প্রেসের স্বাধীনতার ওপর এক গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমস বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, কাতার থেকে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান জেট, যা মিডিয়ায় ‘উড়ন্ত প্রাসাদ’ নামে পরিচিত, তা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনেক দুর্বল, বিশেষত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেই। ট্রাম্প সম্প্রতি তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এই বিমানটি ব্যবহার করেন।
তবে অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে সংবাদপত্র জানায়, বিমানটির নিরাপত্তাজনিত কারণে রিটার্ন ফ্লাইটে প্রেসিডেন্ট হঠাৎ পুরনো বিমান ব্যবহার করেন। গোপন সেবার পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর্টিকেল প্রকাশের আগেই একটি সিনিয়র এফবিআই কর্মকর্তা জাতীয় নিরাপত্তার ভয়াবহতা উল্লেখ করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ বন্ধ করার অনুরোধ করেন এবং সূত্র প্রকাশের দাবি করেন।
শুক্রবার, নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বাড়িতে ফেডারেল এজেন্টরা গিয়ে সাবপিনা হস্তান্তর করেন, যা আগামী সপ্তাহে ম্যানহাটনের ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করবে। সংবাদপত্র এই ঘটনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাধীন সংবাদমাধ্যম দমন নীতির একটি চরম উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
যদিও ট্রাম্প বারবার প্রধানধারার মিডিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট ও মিথ্যাচারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, বিমানটি ‘একটি জাতির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উপহার’ এবং নিজে তা গ্রহণ করেননি।
মে মাসে কাতারি রাজপরিবারের দেওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপহার হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছিলেন। তবে কিছু রাজনীতিবিদ এই উপহারের পেছনে গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী স্বীকার করেছে যে, কাতারি উপহৃত বিমানের নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বোয়িংয়ের সাথে নতুন দুটি এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান তৈরিতে সময় ও খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনা প্রেসিডেন্টের প্রশাসন ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মধ্যে উত্তেজনার এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। এটি প্রেসের স্বাধীনতার প্রতি সরকারি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়, যা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে, কাতারি উপহৃত বিমানের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নিরাপত্তার দুর্বলতা ও বিদেশি উপহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন আলোচনা। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে।