‘আমরা সম্মান চাই’: মধ্য এশিয়ায় পুতিনের কর্তৃত্ব পরীক্ষা 

মনে করা হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়েছে। মধ্য এশিয়ায় কিছু ঘনিষ্ঠ মিত্র নতুনভাবে ইতিবাচক হয়ে উঠেছে রাশিয়ার প্রতি। এই অঞ্চলের পাঁচটি সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ক্রমবর্ধমানভাবে মস্কোর দিকে দাঁড়াচ্ছে। লিভারেজ সম্পর্কে তারা সচেতন। কারণ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়াতে তাদের বাজার এবং বাণিজ্য পথের দিকে তাকিয়ে আছে রাশিয়া। 

গত সপ্তাহে কাজাখস্তানের একটি শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এই অঞ্চলের সবচেয়ে ছোট এবং দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি তাজিকিস্তানের নেতার কাছ থেকে সাত মিনিটের একটি তির্যক বক্তব্য শুনতে হয়েছে। 

তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন বলেছেন, ‘আমরা সম্মান চাই, আর কিছু নয়, শুধু সম্মান।’ তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট। অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, সোভিয়েত যুগ থেকেই মস্কোর মনোভাব বদলায়নি। 

পুতিন অস্বস্তি¡ নিয়েই তার বক্তব্য শুনেছেন। বিক্ষুব্ধ বক্তৃতার একটি ভিডিও সপ্তাহান্তে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি ১৪ অক্টোবরের শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কভারেজের অংশ ছিল না। যখন ইউক্রেনের কারণে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায় তখন তিনি তার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের প্রতি নতুন লজিস্টিক চেইন তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, তাজিকিস্তান সহ মধ্য এশিয়ার দেশগুলো ইতোমধ্যেই বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেন ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশী ব্যবসার বহির্গমনের সমস্যায় যা সরাসরি কিনতে পারেনি তা প্রাধান্য পাচ্ছে।

রাশিয়া যদি বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে না আসে তাহলে তাহলে সরকারগুলোর এর বাইরে যেতে ইচ্ছুক নয় বলেই মনে হচ্ছে। রাহমন স্পষ্ট করেছেন যে তিনি গত মাসে দুশানবেতে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে মস্কো শুধু একজন উপমন্ত্রীকে পাঠানোয় হতাশ হয়েছেন।

কাজাকাস্তানের রানৈতিক বিশ্লেষক রুস্তম বার্নাশেভ বলেছেন, ‘মধ্য এশীয় দেশগুলো, এই অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং এটির উপর একটি নির্দিষ্ট নির্ভরতার উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে রাশিয়াকে বড় ভাই সুলভ আচরণ আংশিকভাবে হলেও ত্যাগ করতে হবে।’ 

Walton Ads