১৪৩ বছরে পঞ্চম উষ্ণতম, বিশ্বের গড় উষ্ণতা ০.৮৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

ব্যাপকহারে কমছে মেরুর বরফ, আশঙ্কায় আবহাওয়াবিদরা। পরিবেশবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। নানা কারণে বিশ্বে গরম বাড়ছে। বহুদিন ধরেই এমনটা বলে আসছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তা যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে, সেটা দেখল এবছরের সেপ্টেম্বর। গোটা বিশ্বের গড় উষ্ণতা পৌঁছে গেল ০.৮৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই নিয়ে গত ১৪৩ বছরের ইতিহাসে পঞ্চমবার গোটা বিশ্বে তাপমাত্রা চরমসীমায় পৌঁছে গেল। সেপ্টেম্বরের এই উষ্ণতম হয়ে ওঠা নজর এড়ায়নি মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের। 

এখনও বছর শেষ হয়নি। কিন্তু, পরিস্থিতি দেখে মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে যে ২০২২ বিশ্বের সেরা ১০টি উষ্ণতম বছরের অন্যতম। প্রত্যাশমতোই গরম বেড়েছে আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও আটলান্টিক অঞ্চলে। তবে পরিস্থিতি যে আরও খারাপ হয়নি তার কারণ- ইউরোপ, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল উত্তর এশিয়ায় তাপমাত্রা ছিল মোটের ওপর স্বাভাবিক।

এর কারণ হিসেবে মার্কিন আবহাওয়া গবেষণা সংস্থাটি জানিয়েছে- অস্ট্রেলিয়া, মধ্য ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে এবছর ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত আট বছরে মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বরফ গলেছে। বর্তমানে মেরু সাগরে বরফের চাদর ৫.৯৫ লক্ষ বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। আন্টার্টিকায় বরফের চাদর ১.৯০ লক্ষ বর্গমাইল জুড়ে রয়েছে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম। আর ১৯৮১ থেকে ২০১০ সালের পরিসংখ্যান ধরলে তার চেয়ে এই বরফের চাদরের পরিমাণ বেশ কম।

দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, মেরু প্রদেশে দ্রুতগতিতে বরফ গলছে। সব বরফ যদি গলে যায়, তবে পৃথিবীর বেশিরভাগ স্থলভাগই বেশ কয়েক ফুট জলের তলায় চলে যাবে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের এই আশঙ্কার মধ্যেই উঠে এল ঘঙঅঅ-এর এই নতুন রিপোর্ট। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, এবারে না-হয় যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টি তীব্র গরম থেকে রক্ষা করল। কিন্তু, আগামিদিনেও যে একইভাবে যথেষ্ট বৃষ্টি হবে, তার গ্যারান্টি কোথায়? তখন কী হবে?

Walton Ads