নির্বাচনের আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পে চাপের মুখে এরদোগান

গত জানুয়ারি মাসে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বুরসা প্রদেশে একটি যুব সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এই সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী ১৪ মে তুরস্কে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে। এই আসন্ন নির্বাচনকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের তিন মাস আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের চাপে পড়েছেন তিনি।

এই ভূমিকম্প এরদোগানের জন্য দূর্ভাগ্য বয়ে নিয়ে এসেছে। ভূমিকম্পের আগে তুরস্কে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচন এরদোগানের জন্য সহজ হবে না। নির্বাচনে তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। ভূমিকম্পের আগে থেকেই এরদোগানকে একের পর এক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছিল। অর্থনৈতিক বিষয়ে তার এই নীতি দেশটিকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে ফেলেছে। গত বছর দেশটিতে ভোগ্যপণ্যের দাম প্রায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

একই সময়ে এরদোগানকে দাবানলসহ পরিবেশগত অন্যান্য বিপর্যয় মোকাবিলা করতে হয়েছে। তার সরকারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নাগরিক অধিকার স্বাধীনতা সংকুচিত করার জন্য এরদোগান সমালোচিত। গত সোমবার ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পরই এরদোগান রাজধানী আঙ্কারায় একটি সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। পরবর্তী সময়েও তাকে তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

গত বুধবার এরদোয়ান ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান। এই স্থানগুলোর মধ্যে কাহরামানমারাস ও হাতায় রয়েছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম। হাতায় সফরের সময় এরদোগান ভূমিকম্পের পর সরকারি পদক্ষেপে তার সরকারের ঘাটতির কথা স্বীকার করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের দুর্যোগের জন্য প্রস্তুত থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads