ভূমিকম্পের ১৪০ ঘণ্টা পর শিশুসহ ৩ জনকে উদ্ধার
তুরস্ক ও সিরিয়ায় গত সোমবারের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ধ্বংস্তুপের নীচ থেকে ১৪০ ঘণ্টা র বেশি পরেও সাত মাসের এক শিশু, ১৩ বছরের একটি মেয়ে ও ২৭ বছরের এক তরুণকেও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে ব্লুমবার্গএর খবরে বলা হয়েছে। তবে আল-জাজিরা ও বিবিসির খবরে বলা হয়েছে এ সংখ্যা ২৮০০০ ছাড়িয়ে গেছে।
অসহনীয় ঠান্ডার মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা বিরাট এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তুপের নীচ থেকে লোকদের জীবিত বা মৃত উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে লাখ লাখ মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।
প্রলয়ংকরি ধ্বংস ও চরম হতাশার মধ্যেও সেখানে জীবিতদের উদ্ধারে অলৌকিক ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটে চলেছে। তুরস্কের দক্ষিণের হাতয় প্রদেশে ভারী ধ্বংসস্তুপের নীচে সাত মাসে শিশু হামজা নিধরভাবে পড়ে ছিল। উদ্ধারকর্মীরা তার কাছে পৌঁছে প্রথমে মনে করেছিলেন যে, শিশুটি মৃত। একজন উদ্ধারকর্মী তার সহকর্মীকে বললেন, “আপনি কি একটি শিশুকে দেখতে পাচ্ছেন?” জবাবে তিনি বললেন, “শিশুটি জীবিত নয়।” আসুন আমরা পরীক্ষা করে দেখি। তুরস্কের টেলিভিশন টিআরটি ওয়র্ল্ড এ দৃশ্য সম্প্রচার করে। কয়েক মুহুর্ত পর ধ্বংসস্তুপের নীচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
এসময় উদ্ধারকর্মীরা “আল্লাহু আকবার” বলে শ্লোগান দেন। দক্ষিণের কাহরামানামারাস প্রদেশের একটি বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তুপ থেকে ২৭ বছরের মুহাম্মাদকে উদ্ধার করা হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল এ প্রদেশ। উদ্ধারের সময় মুহাম্মাদ কোরআন তেলওয়াত করছিলে বলে টিআ্রটি ওয়াল্ডএর সম্প্রচারে দেখা যায়।
মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত গাজিয়ানটেপ প্রদেশ থেকে অলৌকিকভাবে আসমা সুলতান নামে ১৩ বছরের এক বালিকাকে উদ্ধার করা হয় ১৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে।
৭০ বছর বয়স্ক মানেকসি তাবাককে কাহরামানামারাস থেকে উদ্ধার করার পর তিনি “দুনিয়া কি এখনো আছে?” আনাতোলিয়া শহরে দু’মাসের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ভূমিকম্পের ১২৮ ঘণ্টা পর। দু’ বছরে মেয়ে. ছয়মাসে গর্ভবতী এক নারী এবং চার বছরের একটি মেয়ে ও তার পিতাকেও এর আগে উদ্ধার করা হয়েছে।
এনবিএস/ওডে/সি