মিয়ানমারে ৪ দিনে নিহত ৮০ সরকারি সেনা, অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে বেসামরিকদের

প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ দিনে মিয়ানমারের ৮০ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকজন সরকারপন্থী মিলিশিয়াও রয়েছে। এসব সংঘর্ষে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ১১ জন নিহত হয়েছে। এই চারদিনে পিডিএফ গ্রুপের যোদ্ধারা বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষ হয়েছে মাগওয়ে, মান্দালয় অঞ্চল এবং শান ও কারেন রাজ্যে।

গত বৃহস্পতিবার পিডিএফ গ্রুপ সাতটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এসময় এগার জন জান্তা সেনা এবং পুলিশ নিহত হয়েছে। লনসি আঞ্চলিক পিডিএপের মুখপাত্র বলেছে, তারা পাঁচ নাম্বার মিলিটারি উইপন ফ্যাক্টরিতে হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা পাঁচটি সেনা স্থাপনায় হামলা চালায় এবং ভারী বিস্ফোরক দিয়ে শেলিংও করে।

মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনী তাদের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়েই যুদ্ধক্ষেত্রের মতো নিরস্ত্র ও সশস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে দেশটির সেনাবাহিনী। এই জটিল পরিস্থিতিতেই তারা অনুমোদিত বেসামরিকদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদেরকেই পালন করতে হবে।

সেনা অভ্যুত্থানের প্রায় দুই বছর পর জান্তা সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন দেশজুড়ে প্রতিরোধ যোদ্ধা পিডিএফ ও গোষ্ঠীগত সশস্ত্র গ্রুপগুলোর হামলা বাড়ছে এবং দলে দলে সরকারি সেনা নিহত হচ্ছে।

জান্তা সরকারের নতুন নীতিতে ১৮ বছরের উপরে যেসব বেসামরিক তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের শিকারি বন্দুক ও পিস্তল ইস্যু করা হবে। জান্তাপন্থী মিলিশিয়া ও নিরাপত্তা সংগঠনগুলোকে পিস্তল, রাইফেল ও অটোম্যাটিক অস্ত্র দেওয়া হবে।

বস্তুত যারা জান্তা সেনাদের আইন-শৃংখলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে একমত হবে, কেবল তাদেরকেই এই অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হবে। অস্ত্র পাবে জান্তা সমর্থক ও সাবেক সেনা সদস্যরা। একজন আইনজীবি বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষ এই অস্ত্র পাবে না। যারা কেবল সেনাবাহিনীকেই সমর্থন করবে, তারাই এই অস্ত্র পাবে।’

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads