রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরো নিষেধাজ্ঞা দিবে ইইউ, নর্ড স্ট্রিম নাশকতা ঢাকতেই বেলুন-এলিয়েন মাতামাতি

পলিটিকো’র প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিভাবে দেওয়া যায় তা নিয়ে বুধবার আলোচনায় বসছেন ইইউ রাষ্ট্রদূতরা। নিষেধাজ্ঞার দশম এ প্যাকেজে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও জরিমানা থাকছে। রুশ ব্যাংকগুলো ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির ওপর আসতে পারে আর্থিক বিধি নিষেধ। এমনকি রাশিয়ার বৃহৎ বেসরকারি আলফা ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে ইইউ। এমনকি ইউরোপের দেশগুলোতে কর্মরত রুশ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে ইইউ। আরটি

ইউরোপে রাশিয়ায় তৈরি রাবার, ট্রাক, বিটুমিন, ভারী যানবাহন, নির্মাণ যন্ত্রপাতি, পাম্প আমদানিও নিষিদ্ধ হতে পারে। যেসব ইইউ পণ্য আমদানি করে রাশিয়া অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করে তাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।

এদিকে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেন বলেছেন গত কয়েক দিন ধরেই উত্তর আমেরিকার আকাশে একের পর এক অদ্ভুত বস্তু শনাক্ত হচ্ছে। এর আগে যে চীনের বেসামরিক বেলুন নিয়ে উন্মাদনা চলছিল দেশটিতে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে জোর প্রচারণা চলছে এসব নিয়ে। আদতে বিষয়টি ডিস্ট্রাকশন বা মানুষের নজর সরানোর কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্নোডেন।  

সোমবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, উত্তর আমেরিকার আকাশে বাইরের দুনিয়ার প্রাণীদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো বিষয়ই ছিল না। এটি খুবই সুন্দরভাবে তৈরি আতঙ্ক যার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক স্বার্থ কায়েমে ভুল নির্দেশনা সৃষ্টি করা। তিনি আরও বলেন, এটা কোনো এলিয়েন না। এলিয়েন হলে বরঞ্চ ভাল হত কিন্তু এগুলো সেরকম কিছুই না। এটি দারুণভাবে তৈরি একটি আতঙ্ক। কৃত্রিমভাবে এই ইস্যু তৈরি করা হয়েছে যাতে সাংবাদিকরা বাজেট ও নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বোম্বিং বাদ দিয়ে বেলুন নিয়ে পড়ে থাকে।

পশ্চিমা মিডিয়ায় বলা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যেও একই ধরনের চীনা বেলুন উড়তে দেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। পুলিৎজার-জয়ী সাংবাদিক শেমুর হার্শ গত সপ্তাহে এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানান যে, বাল্টিক সাগরের নিচে রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইনে নাশকতার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে একের পর এক অদ্ভুত বস্তু শনাক্ত হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বের গণমাধ্যমের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয় সেটি।

এসব অদ্ভুত অজানা বস্তু কীভাবে এসেছে, কার পাঠানো কিংবা কোথায় অবস্থান করছে তা নিয়ে মানুষ আগ্রহী হয়ে ওঠে। এগুলোকে যুদ্ধবিমান দিয়ে ধ্বংসের খবরও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। রহস্য উদ্ধার করতে না পেরে এটিকে এলিয়েন যান হিসেবেও বর্ণনা করেন অনেকে। তবে স্নোডেনের দাবি, এগুলো আসলে কিছুই না। শুধুমাত্র জনগণের দৃষ্টি সরাতেই পরিকল্পিত উপায়ে এই নাটক সাজানো হচ্ছে।

মার্কিন সরকার কীভাবে সাধারণ নাগরিকদের ফোনের তথ্য চুরি করে তা প্রকাশ্যে এনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন এই স্নোডেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধ থেকে বাঁচতে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। এর দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০২২ সালে তাকে রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেয়া হয়।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads