চীনে রায়িসির সফর: দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়তে শি জিন পিংয়ের গুরুত্বারোপ


ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি চীন সফরে গিয়ে রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রায়িসি দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বৈজ্ঞানিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, ইরান ও চীনের মধ্যে অংশীদারিত্বের দলিল এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও জোর দেন রায়িসি।

বৈঠকে রায়িসি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও চীনের শত্রুদের বিরোধিতা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের সুসংহতকরণ ও সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় দেশের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় এসব সম্পর্ক দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরান ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ধারার কথা উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের দলিল বাস্তবায়নকে তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি তা দিন দিন গভীরতার দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চীন ইরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

তেহরান ও বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে ইরান ও চীনের প্রেসিডেন্টের  গুরুত্বারোপ বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। প্রথমত, ইরান চীনের আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক কৌশলের মধ্যে অবস্থান করার পাশপাশি তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের বিশাল ভান্ডার, বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুদ, উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা এবং আয়তন এবং সেই সঙ্গে  আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রবণতা ও নীতিতে ইরানের অনস্বীকার্য প্রভাবের কারণে বেইজিং তেহরানকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সর্বোচ্চ চাপ  প্রয়োগ বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি চলমান থাকা অবস্থায়ও বেহজিং তেহরানের সঙ্গে পুরো মাত্রায় অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক  চালিয়ে গেছে। এই ক্ষেত্রে চীনে ইরানের তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে এবং চীনারা এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের হুমকির প্রতি মোটেও আমলে নেয় নি। উপরন্তু ইরানের বিভিন্ন অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, শিল্প, জ্বালানি, নির্মাণ এবং কৃষির পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির যে শক্তিশালী অবকাঠামো রয়েছে তাতে  চীনের সাথে সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও গভীর করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। 


ইরানে বিনিয়োগ করতে চায় এমন কোম্পানিগুলিকে সহযোগিতা ও সমর্থন করার জন্য চীনা সরকারের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন: চীন সরকার ইরানের সাথে বাণিজ্য ও ট্রানজিট এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত।

একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের ভূ-কৌশলগত এলাকায় ইরানের উচ্চতর অবস্থান এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের গুরুত্ব চীনসহ যেকোনো শক্তির পক্ষে ইরানকে উপেক্ষা করা অসম্ভব করে তুলেছে। এই বিষয়ে শি জিনপিং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করার সময় একতরফাবাদ, বিদেশী হস্তক্ষেপ এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

দ্বিতীয় বিষয় যা চীনের কাছে ইরানের গুরুত্বকে দ্বিগুণ করে তা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্যের মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান। তেহরান ও বেইজিং বিশ্বে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একতরফাবাদ শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি বহু-মেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার প্রতি জোর দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা ও অত্যাচারী আচরণের সমালোচনা করে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "দুর্ভাগ্যবশত এই দেশগুলো স্নায়ুযুদ্ধের যুগের ভুল পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে আসছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
খবর পার্সটুডে/ এনবিএস/২০২৩/একে

Walton Ads