জন্মের পরেই মেরে ফেলতে চেয়েছিল বাড়ির লোকজন, সেই ববি এখন বিশ্বের সব চেয়ে বুড়ো কুকুর
বাঁচার কথাই ছিল না তার। জন্মের পরেই মেরে ফেলা হয়েছিল তার ভাইবোনদের। কিন্তু খানিকটা ভাগ্য, আর বাকিটা গায়ের অদ্ভুত রং-দুইয়ের কারণে প্রাণটুকু বেঁচে গিয়েছিল তার। সেই ববি আজ ছুঁয়ে ফেলেছে ৩০ বছরের গণ্ডি। গিনেস বুকের রেকর্ড অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সে-ই পৃথিবীর জীবিত কুকুরদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক (world’s oldest dog Bobi)।
৩০ বছর বয়সি ববির বাড়ি মধ্য পর্তুগালের কঙ্কেরিওস এলাকায়। জাতে সে একটি রাফেইরো প্রজাতির কুকুর (Rafeiro Dog)। তার কাজ হল গৃহপালিত জন্তুদের পাহারা দেওয়া। ১৯৯২ সালের সে মাসে কঙ্কেরিওসের কোস্তা পরিবারে জন্ম হয় ববির। বাড়ির এক সদস্য লিওনেল কোস্তার বয়স তখন মাত্র ৮ বছর, সেই সময় তাঁদের বাড়ির একটি কাঠের গুদামে অনেকগুলি সন্তানের জন্ম দেয় গিরা নামে তাঁদেরই একটি কুকুর। কোস্তা পরিবারে তখন এমনিই অনেকগুলি জীবজন্তু, নতুন করে এতগুলি কুকুরকে আশ্রয় দেওয়া, পালন করার সামর্থ্য ছিল না তাঁদের। তাই ঠিক করা হয়, গিরা বাইরে গেলে ছানাগুলিকে নিয়ে দূরে কোথাও ফেলে দিয়ে আসা হবে।
পরিকল্পনা মতো তাই-ই করা হয়। কিন্তু তারপরেও দেখা যায়, গিরা বারবার ওই গুদামে এসে কাকে যেন দেখছে। তারপরেই খোঁজ করে দেখা যায়, তখনও সেখানে একটি ছানা রয়ে গেছে। গায়ের রং কালচে বাদামি হওয়ায় গুদামে রাখা কাঠের সঙ্গে প্রায় মিশেই গেছে সে, আর কারণেই বাকি ছানাদের নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে খেয়াল করেনি কেউ।
লিওনেল ও তাঁর ভাইবোনরা ঠিক করেন, এই ছানাটিকে কিছুতেই মেরে ফেলতে দেবেন না তাঁরা। তার নাম রাখা হয় ববি। সবাই মিলে ঠিক করেন, ববির চোখ না ফোটা পর্যন্ত বাড়ির বড়দের চোখের আড়ালে ওই গুদামেই লুকিয়ে রাখা হবে তাকে।
‘পরে ধরা পড়ার পর শাস্তি পেতে হয়েছিল আমাদের,’ জানিয়েছেন লিওনেল। যদিও ববির জন্য সেসব গায়ে মাখেননি তাঁরা। তারপর কেটে গেছে ৩০ বছর। লিওনেল এবং কোস্তা পরিবারের বাকিদের আদরে দিব্যি রয়েছে ববি। বাড়ির মানুষরা যা খান, ববিও তাই খায়। আলাদা করে তাকে কখনও চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়নি, নিজের মতো গ্রামে ঘুরে বেড়াত ববি। এখন অবশ্য বয়স হওয়ায় বেশি হাঁটাহাঁটি করতে পারে না সে। হয়তো বাড়ির অন্য পোষ্যদের সঙ্গে একটু খেলাধূলা করে, নয়তো খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে উঠোনে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত কুকুর হিসেবে গিনেস বুকে নাম উঠেছে ববির। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ব্লুয়ি নামে একটি অস্ট্রেলিয়ান কুকুরের। ১৯৩৯ সালে ২৯ বছর ৫ মাস বয়সে মৃত্যু হয় তার।
রাফেইরো প্রজাতির কুকুরের আয়ু সাধারণত ১২-১৪ বছর হয়। তবে ববির এই ব্যতিক্রমী আয়ুর জন্য দেশের শান্ত পরিবেশ এবং তার মানুষের মতো খাদ্যাভ্যাসকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন লিওনেল। তিনি জানিয়েছেন ববি একা নয়, এর আগে তাঁদের পরিবারের আরও বেশ কয়েকটি কুকুর রীতিমতো দীর্ঘায়ু ছিল। ববির মা গিরার মৃত্যু হয়েছিল ১৮ বছর বয়সে। আরও একটি কুকুর ২২ বছর বেঁচেছিল বলে জানিয়েছেন লিওনেল।
খবর দ্য ওয়ালের/ এনবিএস/২০২৩/একে