আইএমএফের ঋণ পেতে পাকিস্তানে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার নতুন কর প্রস্তাবনা
বুধবার সংসদে দেশটির অর্থমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী দার চলতি আর্থিক বছরে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে (জুলাই শেষ নাগাদ) একটি সম্পূরক অর্থবিলে ৬৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই কর আরোপের প্রস্তাবনা রেখেছেন।
নতুন এই কর প্রস্তাব গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর দেওয়া হল। ২০১৯ সালে দেশটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ফান্ডের (আইএমএফ) ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্ত ঋণের শর্ত যথাযথ পূরণ করতে না পারায় অনুমোদনকৃত ১.১ বিলিয়ন ডলারের প্রথম দফার কিস্তি হাতে পায়নি পাক সরকার।
নতুন এ অর্থ বিলে প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির আওতায় - সাধারন বিক্রয় কর ১৭ থেকে বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ, বিলাসবহুল পণ্য সামগ্রী ১৭ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ, বিজনেস ও প্রথম শ্রেণীর বিমান টিকেটের উপর ২০ শতাংশ বা ৫০ হাজার টাকা সমপরিমাণ, উৎসে কর হিসেবে বিয়ের কমিউনিটি সেণ্টার ভাড়ায় ১০ শতাংশ ছাড়াও তামাকজাত সিগারেট ও মিষ্টি পানীয়ের উপরও কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিমেন্টের উপর কেজিপ্রতি ১.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী, বেনাজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামের (বিআইএসপি) উপর মোট ৩৬০ বিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ৪০০ বিলিয়ন টাকা কর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এই ‘মিনি বাজেটে’। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যসমূহ যথা গম, চাল, দুধ, সকল রকম মাংসের উপর থেকে জিএসটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার বলছে নিম্ন আয়ের মানুষের উপর চপ কমাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিলটি পার্লামেন্টে বিরোধীদলের বিনা উপস্থিতিতেই উত্থাপিত হল। এর আগে ইমরান খানের দলের সদস্যরা গত বছর সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে সংসদ বয়কট করে পদত্যাগ করেন।
এই নতুন কর প্রস্তাব ইস্যুতে দেশটির সাবেক এক সংসদ সদস্য নুর আলম খান এক প্রতিক্রিয়্য বলেন, পাকিস্তান এমন এক দেশ যেখানে শুধু ট্যাক্স আর ট্যাক্স কিন্ত লাভ বলতে কিছু নেই। একদিকে মুদ্রাস্ফীতি আর এই কর জনগণের জন্য বোঝা ছাড়া কিছু নয়।
অর্থমন্ত্রী দার বলেন, সরকার চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের অরথিক ও একাউন্ট ঘাটতি পূরণে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আইএমএফের কর্মসূচী বাস্তবায়িত হলে বৈদিশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে ও এলসি খোলায় আর বাধ থাকবেনা।
দেশটির একজন সিনিয়র অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন করে কর বৃদ্ধির চেয়ে আবাসন ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে থেকে কর সংগ্রহের দিকে মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয়মাসে মুদ্রস্ফীতির হার ৩৩ শতাংশ দাড়িয়েছে যা শুধুমাত্র আইএমএফের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে কাটানো সম্ভব নয়।
এনবিএস/ওডে/সি