খরার কবলে ফ্রান্স, ফুটিফাটা মাটি, শুকোচ্ছে নদী, ইউরোপজুড়ে জলবায়ু বদলের ভয়ঙ্কর প্রভাব


: কোথাও নদী পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে, তো কোথাও প্রচণ্ড দাবদাহে মাটি ফুটিফাটা। তীব্র তাপপ্রবাহে এ ভাবেই পুড়ছে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশ। খরার (Drought) কবলে ফ্রান্স (France), ইতালি (Italy)। ইতালিতে ইতিমধ্যেই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি। ভেনিসের ক্যানালগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। খরার কবলে ফ্রান্সও। দেশের নদীগুলোর জলস্তর কমতে শুরু করেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, ১৯৫৯ সালের পরে এত শুষ্ক শীতকাল দেখা গেল। 
সম্প্রতি আবহাওয়া নিয়ে প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক রিপোর্ট বলছে, ইউরোপজুড়ে ভয়ঙ্কর খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আগে থেকেই সতর্ক করে রাখছেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা।
পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাদেশের অন্তত ৪৭ শতাংশ এলাকা এখন সতর্কতার আওতায় রয়েছে। মাটিতে কমছে আদ্রতার পরিমাণ। ১৭ শতাংশ এলাকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। যেখানে খরার ফলে চাষাবাদের উপরে প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে চলেছে।

ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশে দাবানলের প্রকোপ বেড়েছে, কম বৃষ্টিপাতের জন্য ব্যাহত হচ্ছে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন। তীব্র দাবদাহের ফলে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। আল্পস পর্বতমালায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম তুষারপাত হওয়ায় খরার মুখোমুখি হয়েছে ইতালি। খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মূলত ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইটালি, লুক্সেমবুর্গ, মলডোভা, নেদারল্যান্ডস, সার্বিয়া, পর্তুগাল, ব্রিটেন, স্পেন, রোমানিয়া, ইউক্রেনের মতো দেশে।
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির নদীতে জলস্তর ভয়ানক ভাবে নেমে গেছে যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে। চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আবহবিদেরা জানাচ্ছেন, এ বছর থেকে খরা ও তাপপ্রবাহের দাপট দেখা যাবে পশ্চিম ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায়। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে রাতের দিকেও তেমন ঠান্ডা হচ্ছে না। বিশ্ব উষ্ণায়ণের ভয়ঙ্কর প্রভাব ফলতে শুরু করেছে ইউরোপজুড়ে।
খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২৩/একে

Walton Ads