আমোরে মিও! শুকিয়ে যাচ্ছে ভেনিসের খাল-বিল, খরার অশনিসংকেত ইতালিতে
প্রচণ্ড দাবদাহ। দহনজ্বালায় জ্বলছে ইতালি (Italy)। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের জেরে খরার (drought) কবলে পড়েছে ইতালি। পরিস্থিতি খুবই সঙ্কটজনক। খালবিলের জল শুকোচ্ছে, এতটাই মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে ভেনিসের বিখ্যাত ক্যানালগুলির জলও শুকিয়ে যাচ্ছে।
ভেনিস নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে, ক্যানেল, ওয়াটার ট্যাক্সি। বাড়ির অলিগলির মধ্যে দিয়ে চলেছে নৌকা। ইতালিয় ভাষায় ‘আমোরে মিও’ মানে হল ভালবাসা, খুবই কাছের কেউ। ভালবাসার সেই ইতালিই এখন চরম সঙ্কটের মুখে। চেনাজানা ভেনিসের ছবিটা যেন অচিরেই বদলে গিয়েছে। ভেনিসের একাধিক ক্যানেলে জল শুকিয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমনই হয়ে গিয়েছে, ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবায় শহরের বড় অংশে বন্ধ হয়ে গেছে।
ইতালির এমন পরিস্থিতি কেন?
পরিবেশবিদ ও আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইতালিতে খরার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার নানা কারণ আছে। প্রথমত, আল্পস পর্বতমালায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম তুষারপাত হয়েছে, দ্বিতীয়ত অনিয়মিত জোয়ার-ভাঁটা, তৃতীয়ত, বিশ্ব উষ্ণায়ণের (Global Warming) জেরে জলবায়ু বদল এবং তার প্রভাবে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ইতালিতে খরার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া, উত্তর ইতালিতে জলের বড় চাহিদা মেটানো পো নদীতে ৬১ শতাংশ জল কমেছে। নদীর জলস্তর কমে যেতে পারে এমন আশঙ্কার কথা আগেই শুনিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। ফলে কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ তাদের রিপোর্টে বলেছিল, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০৪০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রবল গরম ও খরার মুখোমুখি হতে চলেছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ। মারাত্মক গরমের সঙ্গে খরার যোগ রয়েছে। প্রবল গরমে স্থলভাগে জলসঙ্কট দেখা দেবে। অর্থাৎ জমিতে জলের ভাগ কমবে। ফলে খরার পরিস্থিতি তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাস্তুতন্ত্রে এর বড় প্রভাব পড়বে। অর্থনীতি ধাক্কা খাবে। এবং শেষমেশ একটা সামাজিক অসাম্য তৈরি হবে। গরিব মানুষেরা আরও গরিব হবেন। গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ক্ষতি বেশি হবে।
২০১৫-র প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ১৫০ দেশ গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমণ কমানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন নেই। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রনেতারা জলবায়ু তথা পরিবেশের এই ভয়ানক বিপদের কথা বুঝতেই পারেন না বলেও দাবি বিজ্ঞানীদের।
খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২৩/একে