পাখনার জায়গায় দুটো হাত, সমুদ্রের অতলে হামাগুড়ি দেয়, হেঁটেচলে বেড়ায় এই মাছ

 এই পৃথিবীতে রোজই কত কিছুই না ঘটছে। কত অজানা বিষয়কে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছে বিজ্ঞান। তেমনই এক অদেখাকে দেখা গেল সমুদ্রে। যাকে শেষবারের মতো দেখে গিয়েছিল ২২ বছর আগে। অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে। ফের দেখা মিলল এই বিরল ও বিলুপ্ত প্রাণীটির (Handfish)। 
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা, কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিএসআইআরও) জানিয়েছে, তাসমানিয়া, অস্ট্রেলিয়ায় এই বিরল প্রজাতির প্রাণি দেখা গেছে। এর নাম হ্যান্ডফিশ (Handfish)। এক ধরনের মাছ যাদের পাখনার জায়গায় রয়েছে হাতের মতো অঙ্গ। এই অঙ্গদুটি দিয়েই সমুদ্রের গভীরে এরা হেঁটেচলে বেড়াতে পারে। এদের দৈর্ঘ্য ১৫ সেন্টিমিটার (৫.৯ ইঞ্চি)। এদের আরও একটা নামে ডাকা হয়– ‘ওয়াকিং ফিশ’ (Walking Fish)।

১৮০০ সালে প্রথম মানুষের চোখে ধরা দিয়েছিল এই বিরল প্রজাতির মাছ। ফ্রান্সের প্রাণীবিদ ফ্রানসিস ফেরোঁ সামনে এনেছিলেন এর উপস্থিতি। পরে আবিষ্কৃত হয়েছিল হ্যান্ডফিশের মোট ১৩টি প্রজাতি। তবে ক্রমশ বিলুপ্ত হতে হতে ২০০০ সালে অবশিষ্ট ছিল মাত্র ৪টি প্রজাতি। সারা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে যেতে কেবল মাত্র অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এই মাছ।


তাসমানিয়ার উপকূলের কাছে দেখা মিলেছে হ্যান্ডফিশের। এই মাছটিকে আগেই বিরল তকমা দেওয়া হয়েছিল। আইইউসিএন ( IUCN)-এর লাল তালিকায় রয়েছে এই মাছ। এখন এদের বিলুপ্তপ্রায় বলা হচ্ছে। পৃথিবীতে ১৫ প্রজাতির হ্যান্ডফিশ রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ প্রজাতিই বিলুপ্তির খাতায় নাম লিখিয়েছে। তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ অ্যান্টার্কটিক অ্যান্ড মেরিন স্টাডিজের অধ্যাপক নেভিল ব্যারেট এই মাছটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাসমানিয়া উপকূলের কাছে অল্প সংখ্যক এই মাছ রয়েছে। তবে মানুষের কার্যকলাপ, বিশ্ব উষ্ণায়ণের জেরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই মাছ ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

খবর দ্য ওয়ালের/এনবিএস/২০২৩/একে

Walton Ads