বিপ্লবী ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর নামে বিদ্যুতের বিল বাকী

দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া দুই বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর নামে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বিদ্যুতের বিল বাকী। বীর শহিদদের না পেয়ে ভারতের বিহার রাজ্যের মুজাফফরপুরে স্মৃতিস্তম্ভেই লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ।

উত্তর বিহার বিদ্যুৎ অফিস থেকে বাকী মেটানোর নোটিশ দিয়ে বলা হয়েছে, আগামি ৪ মার্চের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।

যেই বীর বিপ্লবীরা দেশের জন্য নিজেদের জীবন দিতে দু’বার ভাবলেন না, মরেও কিনা শান্তি নেই তাদের! তবে এখানে প্রশ্ন হল মৃত্যুর ১১৫ বছর পরও তাদের নামে বিদ্যুৎ বিল কেন? সত্যিই কী বিদ্যুৎ বিল বাকী রয়েছে তাদের নামে? নাকি ভুয়া কোনো তথ্যই নিয়েই এই শোরগোল। এই প্রশ্নের রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে জানা গিয়েছে ওই বিল ভুয়ো নয়।

১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট মুজাফফরপুর জেলে ফাঁসি হয়েছিল ক্ষুদিরাম বসুর। নেপথ্যে ছিল ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টা। যদিও ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর ছোঁড়া বোমায় মৃত্যু হয়েছিল দুই ব্রিটিশ মহিলার। এরপর নিজের শরীরে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন প্রফুল্ল। মোকামা স্টেশনে ধরা পড়েন ক্ষুদিরাম। ১৮ বছর ৮ মাস ১১ দিন বয়সে ফাঁসি হয় তার। দেশের সবচেয়ে কম বয়সি শহিদ ছিলেন তিনি।

পাটনার বিদ্যুৎভবনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই বিল ভুয়া নয়। আসলে বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে দুই শহিদের স্মৃতিস্তম্ভের। সেখানে রাতে আলো জ্বলে, যার দেখভালের দায়িত্ব একটি বেসরকারি সংস্থার। কিন্তু তাদের নামে বিল না করে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর নামে নোটিশ কেন? ওই সংস্থাকে চাপে ফেলার কৌশল? এর উত্তর দেয়নি ।

স্থানীয়দের দাবি স্মৃতিস্তম্ভের বিদ্যুৎ সংযোগ যাতে বিচ্ছিন্ন না হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগীতা চায় তারা।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads