এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ০৫:০২ পিএম
ত্রিপুরা নাগাল্যান্ডে জয়ের পথে বিজেপি, মেঘালয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে তৃণমূল
উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী ২ মার্চ। বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের বিধানসভায় জয় পেতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর মেঘালয়ে সরকার গঠন করতে না পারলেও রাজ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।
ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিজেপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস-বাম জোট এবং তৃণমূল কংগ্রেস। তবে জয় পেতে পারে বিজেপিই। এ ছাড়া রাজ্যের ত্রিপুরা জাতিসত্তার দল তিপ্রা মথার ভালো ফলাফল করার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। তবে ত্রিপুরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ভেবেছেন সেভাবে ফল নাও করতে পারে তৃণমূল। কংগ্রেস-বামফ্রন্ট কাঙ্ক্ষিত ফলাফল থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে।
ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া তাদের বুথফেরত সমীক্ষায় বলছে, ত্রিপুরা বিধানসভায় ৬০টির মধ্যে বিজেপি ও আইটিএফটি জোট পেতে পারে ৩৬ থেকে ৪৫টি আসন। কংগ্রেসবাম জোট পেতে পারে ৬ থেকে ১১টি আসন। আর তিপ্রা মথা পেতে পারে ৯ থেকে ১৬টি আসন।
টাইমস নাউ তাদের বুথফেরত জরিপে বলছে, ত্রিপুরায় বিজেপি পেতে পারে ২৪টি আসন। কংগ্রেসবাম জোট পেতে পারে ২১টি আসন আর তিপ্রা মথা পেতে পারে ১৪টি আসন।
অন্যদিকে জন কি বাত বলছেন, ত্রিপুরায় ২৯ থেকে ৪০টি আসন পেতে পারে বিজেপি। কংগ্রেসবাম জোট পেতে পারে ৯ থেকে ১৬টি আসন। আর তিপ্রা মথার ১০ থেকে ১৪টি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এনডিটিভির জরিপে বলা হয়েছে, ত্রিপুরায় বিজেপি সর্বোচ্চ ৩২টি, কংগ্রেস–বাম জোট ১৫টি এবং তিপ্রা মথা ১২টি আসন পেতে পারে।
ইন্ডিয়া টুডে ও অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথফেরত জরিপে বলা হয়েছে, মেঘালয়ের বিধানসভায় ২২টি আসনে জয়ে পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে কনরাড সাংমার ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।
মেঘালয়ে বিজেপি জয় পেতে পারে ৫টি আসনে। তৃণমূল কংগ্রেসের ১১টি আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটতে চলেছে তৃণমূলের। ৬০টি আসনের বিধানসভায় বাকি আসনগুলো পেতে পারে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল।
অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০টি আসনের মধ্যে বিজেপি ও এনডিপিপি জোট ৪২টি আসনে জয় পেতে পারে বলে এনডিটিভির বুথফেরত জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নাগাল্যান্ডে এনপিএফ ৬টি ও কংগ্রেস মাত্র একটি আসনে জয় পেতে পারে।
২০১৮ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ত্রিপুরায় মূলত কংগ্রেস এবং সিপিএমের মধ্যেই লড়াই জারি ছিল। বর্তমানে এই তিন দলের সঙ্গেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রদ্যোৎ মাণিক্য দেববর্মা নেতৃত্বাধীন ষতিপ্রা মথা। আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বের দাবি করে এই দল।
এই বছর, বিজেপি-আইপিএফটি, সিপিআই(এম)-কংগ্রেস জোটের পাশাপাশি ভোটের ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ত্রিপরা মোথা। ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। নির্বাচনে মোট ২৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিজেপি ত্রিপুরায় ফের ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বলে সমীক্ষায় প্রকাশ। পদ্ম শিবির এবার ৫৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, বাকি ৫টিতে লড়েছে তাদের জোটসঙ্গী আইপিএফটি।
সিপিআই(এম) ৪৩টি আসনে ও তাদের বন্ধু কংগ্রেস ১৩টিতে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তিপ্রা মথা লড়েছে ৪২টি আসনে। তৃণমূল কংগ্রেস ২৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মোট ৫৮ জন নির্দল প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এনডিপিপি ও বিজেপি জোটের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য নাগাল্যান্ডের বিধানসভা নির্বাচনে ১২টি রাজনৈতিক দল এবং নির্দল মিলিয়ে মোট ১৮৩ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০ জন এনডিপিপি ও ২০ জন বিজেপি, ২২ জন এনপিএফ, কংগ্রেসের ২৩ জন ও এলজিপি-র (রাম বিলাস) ১৫ জন, এনসিপি-র ১২, আরপিআই (আটওয়াল)-র ৯, জেডিইউ-র ৭, আরজেডি-র ৩, আরপিপি-র ১, সিপিআই-র ১ ও নির্দল ১৯ জন।
এ বছর এনপিপি ও বিজেপি পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যেহেতু এনপিপি-র বিরুদ্ধে গত পাঁচ বছরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাই মরিয়া বিজেপির প্রচার ও ইস্তেহারে মেঘালয়কে “দুর্নীতিমুক্ত” করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ৫৮টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপি এবং কংগ্রেস ৬০টি আসনের সবকটিতেই প্রার্থী দিয়েছে।
এনবিএস/ওডে/সি