এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ০৭:০২ পিএম
রোমান সভ্যতার বিশেষ ‘খেলনা’র সন্ধান পেলেন পুরাতত্ত্ববিদরা
বর্তমান সময়ে ‘সেক্স টয়’ শব্দবন্ধের সঙ্গে কম বেশি সকলেই পরিচিত। সঙ্গী থাক বা না থাকে, যৌনসুখ লাভের জন্য সেক্স টয় ব্যবহার করেন আজকাল অনেকেই। তবে সেক্স টয়ের ধারণা একেবারেই নতুন নয়, বরং সুপ্রাচীন যুগেও মানুষ এই ধরনের বিশেষ ‘খেলনা’র ব্যবহার করতেন, এমনটাই জানিয়েছেন পুরাতত্ত্ববিদরা। সম্প্রতি উত্তর ইংল্যান্ডের ভিন্ডোলান্ডা রোমান দুর্গ এলাকা থেকে একটি কাঠের দণ্ড আকৃতির জিনিস পাওয়া গেছে, যেটি এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া বিশ্বের প্রাচীনতম সেক্স টয় বলে অনুমান তাদের।
ভিন্ডোলান্ডা এলাকাটি ইউরোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরাতাত্ত্বিক সাইট, যেখান থেকে রোমান সভ্যতার সময়কার অজস্র নির্দশন পাওয়া গেছে। সেখান থেকেই পাওয়া গেছে কাঠের দণ্ডটি। ৬.৫ ইঞ্চি লম্বা দন্ডটির একটি দিক চওড়া হলেও অন্য দিকটি তুলনায় সরু এবং মসৃণ। নিয়মিত ঘর্ষণের ফলেই সেটি এতখানি মসৃণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ড. রব কলিন্স জানিয়েছেন, রোমান এবং গ্রিক সাম্রাজ্যের মানুষ যৌনতার আনন্দ লাভের জন্য বিভিন্ন ধরনের জিনিস ব্যবহার করতেন। নতুন আবিষ্কৃত এই কাঠের দণ্ডটিও সেরকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
‘আমি যতদূর জানি, এটা রোমান সামাজ্যের সময়কার এই ধরনের প্রথম লিঙ্গ আকৃতির বস্তু । এটা ৬.৫ ইঞ্চি লম্বা, ছুরি বা ছোট ব্লেডের সাহায্যে গাছের ডাল থেকে হাত দিয়ে খোদাই করা। এটা পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে এত বছর ধরে অবিকৃত রয়েছে, সেটাও খুবই অভিনব ব্যাপার,’ জানিয়েছেন তিনি।
ড. কলিন্স আরও জানিয়েছেন, রোমান সভ্যতার সময় যৌনসুখ লাভের জন্য কৃত্রিম লিঙ্গের ব্যবহার খুব সাধারণ ব্যাপার ছিল। তার বহু নির্দশন পাওয়া গেছে আগেও। তবে সেগুলি মূলত বড় পাথরে খোদাই করা, অথবা হাড় কিংবা ব্রোঞ্জের টুকরো কেটে তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া শিল্পকীর্তি হিসেবেও পাওয়া গেছে বিভিন্ন রকমের জিনিস।
অন্যান্য সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন ড. কলিন্স। তিনি জানিয়েছেন, খাবার এবং অন্য জিনিস গুঁড়ো কিংবা পেষাই করার জন্য হামানদিস্তার অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে কাঠের দণ্ডটি। এছাড়া বড় কোনও মূর্তি কিংবা ভবনের অংশও হতে পারে সেটি।
আপাতত ব্রিটেনের ভিন্ডোলান্ডা জাদুঘরে রাখা হয়েছে দণ্ডটি। শিগগিরই ওই এলাকা থেকে এই ধরনের আরও একাধিক জিনিস পাওয়া যাবে, যার ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন তথ্য জানার পথ সুগম হবে বলে আশাবাদী পুরাতাত্ত্বিক গবেষকরা।
এনবিএস/ওডে/সি