ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

করোনা মহামারির তিন বছরেও জানা যায়নি ভাইরাস সৃষ্টির রহস্য


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ০৭:০২ পিএম

করোনা মহামারির তিন বছরেও জানা যায়নি ভাইরাস সৃষ্টির রহস্য

 করোনা মহামারির তিন বছরেও জানা যায়নি ভাইরাস সৃষ্টির রহস্য

আসলেই কি এ ভাইরাসের জন্য পশু পাখি হতে ছড়িয়েছে নাকি চীনের উহান ল্যাবই দায়ী? – এমনই কঠিন এক রহস্যঘেরা প্রশ্নের সামনে বিশ্বের সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে।  

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি কমিশন বিভাগ পশু- পাখি হতে ছড়ানোর ব্যাপারে তেমন যুক্তি খুঁজে না পেলেও এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, এ মুহুর্তে সরকার  আসলেই ঠিক এভাবে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে সে বিষয়ে কোনো মতৈক্যে পৌছাতে পারেনি।

ওয়াল স্ট্রীট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে  ডিপার্ট্মেন্ট অব এনার্জি জানায়, ২০২১ সালের কিছু তথ্য পর্যালোচনা করে নতুন করে গোয়েন্দা রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এটি করা হয়েছে । তবে সোমবার হোয়াইট হাউজ কর্তৃপক্ষ এ প্রতিবেদনের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন নাকচ করে দিয়েছে।

২০২১ সালের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে  চারজন সদস্য জানান পশু পাখির শরীর হতে এটি মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। একইসঙ্গে প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে এটি ছড়ানোর জন্য ল্যাব দায়ী থাকার সম্ভাবনাই বেশী।

আর কিছু বিজ্ঞানিরা মনে করছেন, ল্যাব নয় বরং জীবজন্ত হতেই এটি সংক্রমিত হতে পারে যা হয়ত মানবদেহে লাফিয়ে আসতে পারে। এর আগেও এভাবেই বেশ কিছু ভাইরাস মানুষের শরীরে চিহ্নিত হয়েছিল। তবে হয়ত আরও বছর গেলেও এর সত্যতা জানা যাবে না।

বোর্ড ইনষ্টিটিউট অব ম্যাসাচুসেষ্ট টেকনলজি এন্ড হার্ভার্ডের মলিকিউলার বায়োলজিষ্ট এলিনা চ্যান বলেন, আমি আসলে নিশ্চিত নই গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের  বিষয়ে। কিন্ত চীনের উহান ল্যাবের সম্পৃক্ততার ব্যাপারটি উড়িয়ে দেয়া যায়না। তিনি ও মার্কিন সহযোগী মিলে  ২০১৮ সালের এক গবেষণা পত্রে কোভিডের আগাম সতর্কতায় এটির পুর্ব পরিকল্পনার বিষয়টি উল্লেখ করেন।ভাইরাসটি নিয়ে উহান ল্যাব অনেকবছর ধরেই গবেষণা চালিয়ে আসছিল। এর আগে সার্স ভাইরাস নিয়েও কাজ করে ল্যাবটি।

চ্যান বলেন, কোনো সংস্থাই বিশ্বাস করেনা এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হয়েছে। ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভাইরাসটি জীবাণু অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হয়নি। ল্যাবে যে কোন সময় দূর্ঘটনা হতেই পারে। অনেকেই হয়ত পরীক্ষাগারের দূর্ঘটনার সম্পর্কে শুনে থাকেনি বা এমন তথ্য জনপ্রকাশ্যেও আসেনি। তাই তা কিছুটা নতুন সাধারণ মানুষের কাছে। সেসময় গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ল্যাব দুর্ঘটনা সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণসহ প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করে।

এদিকে কোভিড-১৯ ল্যাবরেটরি থেকে এটি ছড়ানোর প্রতিবেদনটি অবশ্য ভিত্তিহীন বলছে চীন। এমনকি অনেক বিজ্ঞানীরাও বিশ্বাস করেন জীব-জন্ত হতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এটি ছড়ানোর সম্ভাবনা  রয়েছে। ২০২১ সালের এক জার্নালে বিজ্ঞানীর লিখেন, পৃথিবীতে পূর্বে ছড়িয়ে পড়া অনেক ভাইরাসই এভাবেই ছড়িয়েছিল।

করোনা সৃষ্টির জন্য উহানের সীফুড মার্কেটকে শুরু থেকেই মুল হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। গত বছরের এক প্রতিবেদনে এমনটাই আসে। আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞানী মাইকেল ওরোবে লিখেন, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে আসার আগে মূল গবেষণাপত্রের প্রতিবেদন বেশী জরুরি। তিনি যুক্ত্ররাষ্ট্রকে গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশে আরও দায়িত্বশীল হবার পরামর্শ দিয়েছেন।

গতমাসে রিপাবলিকানরা ড. এন্টনি ফাউসি, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর এভ্রিল হাইনেস , স্বাস্থ্য সচিব জেভিয়ার বিকেরা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে এক চিঠিও পাঠায়।

দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র অবশ্য বলছেন বাইডেন প্রশাসন মনে করছেন এটি নিয়ে কংগ্রেসে বিশদ আলোচনা হওয়া দরকার। ভাইরাসটির উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল আর এটির জন্য কারা দায়ী তা খুঁজে বের করাও দরকার বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাইডেন এটিকে সঠিক ও নিরাপদ  প্রক্রিয়ার মধ্যে করার আহবান জানিয়েছেন।

এনবিএস/ওডে/সি