এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৩, ০৬:০৩ পিএম
ভারতে ১২২ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ফেব্রুয়ারিতে ২৯.৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আরো গরমের শঙ্কা
ভারতে ১৯০১ সালের পর সবচেয়ে বেশি উষ্ণ ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে। এ মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠে ২৯ দশমিক ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, সামনের মাসগুলোতে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।
বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গরম পড়বে বেশি। সাধারণত ভারতের ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২৪.৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে। কিন্তু এবার তা আরো ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পাঁচবার। ভারতের আবহাওয়াবিদরা বলছেন গত বছরের মতো তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফসল কম হওয়া এবং বিদ্যুত বিপর্যয়ের শঙ্কা করা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি ভারত। তাপপ্রবাহ, ব্যাপক বন্যা ও তীব্র খরার মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতিতে প্রতিবছর হাজারো মানুষ মারা যায়। কৃষি উৎপাদন কমে গিয়ে অর্থনৈতিক দুরবস্থা বাড়ে। তাপপ্রবাহের কারণে জলবিদ্যুতের উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যায়। এতে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সিনিয়র বিজ্ঞানী এস সি ভান বলেন, মার্চ, এপ্রিল, মে এ তিন মাস ভারতের বেশির ভাগ এলাকায় তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে ভারতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গমের উৎপাদন কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ। চীনের পরেই এর অবস্থান। মার্চ মাসের তাপমাত্রা কেমন হবে, তার ওপর গমের ফলন নির্ভর করে।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে এস সি ভান বলেন, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে, বজ্রপাতও হচ্ছে কম এবং আকাশ রয়েছে পরিষ্কার, ফলে ঝড়-বৃষ্টির অভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে।
ভারতে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে গত বছরের মার্চ মাসটি ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। এতে শস্যের ফলন কম হয়েছে এবং দেশটির সরকার রপ্তানি কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। চলতি মার্চ মাসে উপদ্বীপ অঞ্চল ছাড়া অন্য এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ওপরে থাকার আভাস রয়েছে।
তাপপ্রবাহের কারণে ফলন কম হলে রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ার এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলন কম হলে স্থানীয়ভাবে খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টার ওপরও প্রভাব পড়বে। উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে ইতিমধ্যে ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ের কাছে পৌঁছে গেছে। এমন অবস্থায় বিদ্যুৎ–বিপর্যয় ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার। যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আমদানি করা কয়লার ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোকে গ্রীষ্মকালীন তিন মাস পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ চালানোর জন্য বলা হয়েছে। শীতাতপনিয়ন্ত্রণযন্ত্র ও সেচযন্ত্র চালানোর জন্য বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জেনারেটর দিয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে ভারতের কয়েকটি রাজ্যকে দাবদাহের কবলে পড়তে দেখা গেছে। তখন থেকে ২০২০ সাল নাগাদ তাপপ্রবাহ বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
এনবিএস/ওডে/সি